একটা শহরকে চেনার অনেক উপায় আছে। কেউ চেনে তার রাস্তা দিয়ে, কেউ পুরনো বাড়ি দেখে। আর খাদ্যাপ্রেমীদের কাছে শহরকে চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তার পুরনো খাবারের আস্তানাগুলি। দেশের দুই বড় মেট্রোসিটি কলকাতা আর দিল্লিতেও এমন বেশ কিছু জায়গা রয়েছে, যেগুলি ব্রিটিশ আমল থেকে আজও টিকে আছে। ব্রিটিশরাজ চলে গেছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে, শহরের চেহারা বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি সেই পুরনো স্বাদ।
Unknown Food Hubs: দিল্লিতে শত বছরের পুরনো স্বাদের টান
করিমস
দিল্লির করিমস-এর গল্প শুরু ১৯১৩ সালে। জামা মসজিদের কাছে ছোট একটি ধাবা দিয়ে হাজি করিমউদ্দিন এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁর বাবা মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের রান্নাঘরে কাজ করতেন। শুরুতে আলু গোশত, ডাল আর রুমালি রুটিই ছিল মূল খাবার। সেই ছোট দোকান আজ দিল্লির অন্যতম পরিচিত খাবারের ঠিকানা।
ওয়েঙ্গার্স
১৯২৪ সালে শুরু হয় ওয়েঙ্গার্স। প্রথমে ব্রিটিশ সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহ করত এই প্রতিষ্ঠান। পরে কনট প্লেসে চলে আসে। কেক, পেস্ট্রি আর নানা ধরনের ইউরোপীয় খাবারের জন্য আজও এর আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
কোয়ালিটি
কনট প্লেসের আর এক পুরনো নাম কোয়ালিটি। ১৯৪০ সালে শুরু হওয়া এই রেস্তরাঁ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাদের খাবার পরিবেশন করত। পরে ছোলা-ভাটুরা আর আইসক্রিমের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।কফি হাউস১৯৪২ সালে তৈরি হয় ইউনাইটেড কফি হাউস। সেই সময় দিল্লিতে কফি খেতে খেতে আড্ডা দেওয়ার চল খুব বেশি ছিল না। কবি, শিল্পী, রাজনৈতিক কর্মী ও আমলাদের বসার জায়গা হয়ে ওঠে এই কফি হাউস।
কলকাতায় খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে ইতিহাস
হিন্দু হোটেল
কলকাতার স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল-এর শুরু ১৯১২ সালে ‘হিন্দু হোটেল’ নামে। পরে ভবানী দত্ত লেনে চলে আসে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী এখানে খেতেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে এই হোটেলের সঙ্গে। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট নাম বদলে হয় ‘স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল’। এখনও এখানে পাওয়া যায় ঘরোয়া বাঙালি রান্না।
সময় বাঁচাতে প্রেশার কুকারের খাবার খাচ্ছেন? ভুল করছেন না তো?
কফি হাউসের সেই আড্ডা
কলকাতার আড্ডার কথা উঠলে ইন্ডিয়ান কফি হাউস-কে তো বাদ দেওয়া যায় না। ১৮৭৬ সালে এই জায়গায় ছিল অ্যালবার্ট হল। ১৯৪২ সালে সেখানে শুরু হয় কফি হাউস। স্বাধীনতার পরে নাম হয় ইন্ডিয়ান কফি হাউস। লেখক, কবি, শিল্পী, সিনেমার মানুষ থেকে কলেজ পড়ুয়া—প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে আড্ডা দিয়েছে।
কেকের স্বর্গ নাহুমস
আর নিউ মার্কেটের নাহুম অ্যান্ড সন্স-এর শুরু ১৯০২ সালে। পুরনো কাঠের সাজসজ্জা, কাচের কাউন্টার আর বিখ্যাত প্লাম কেক এখনও মানুষকে টানে। বড়দিন এলেই এখানে ভিড় আরও বাড়ে।
পার্কস্ট্রিটের ফ্লুরিস
১৯২৭ সালে পার্ক স্ট্রিটে শুরু হয় ফ্লুরিস। সুইস ধাঁচের কেক, পেস্ট্রি ও নানা খাবারের জন্য জায়গাটি ধীরে ধীরে কলকাতার অন্যতম পরিচিত ঠিকানা হয়ে ওঠে। আজও পার্ক স্ট্রিটে গেলে পুরনো কলকাতার সেই আমেজ কিছুটা পাওয়া যায় এখানে।
সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, শহরের খাবারের তালিকাতেও এসেছে হাজার পরিবর্তন। তবু এই পুরনো জায়গাগুলি এখনও টিকে আছে। তাই সেখানে খেতে বসা মানে শুধু খাবার খাওয়া নয়, সঙ্গে একটু পুরনো কলকাতা বা দিল্লির স্বাদও নিয়ে ফেরা।












