কুশল চক্রবর্তী
খেলার আগেই আশঙ্কা ছিল, হলোও তাই। ISL-এর তৃতীয় ম্যাচে জামশেদপুর FC-র কাছে ২-১ গোলে হেরে গেল East Bengal FC। এখন অবধি ISL-এর দু’দলের লড়াইয়ে ৯টি ম্যাচে চারটে জিতে নিল জামশেদপুর। ইস্টবেঙ্গল দাঁড়িয়ে রইল দুটি জয়ে। এই হার ইস্টবেঙ্গলকে কতটা ISL-এ পিছিয়ে দেবে তা তো সময়ই বলবে। কিন্তু জামশেদপুর FC ইস্টবেঙ্গল দলের দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে আবার দেখিয়ে দিয়ে গেল। প্রথম দুটো ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল বেশ স্বস্তিকর ব্যবধানে জিতলেও রক্ষণের দুর্বলতা প্রতি ম্যাচেই প্রকট ছিল। সেটা এবার অভিজ্ঞ কোচ ওয়েন কয়েল পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে জামশেদপুরকে এই মুহূর্তে ISL-এর শিখরে পৌঁছে দিল।
সামগ্রিক খেলা কিন্তু বেশ চাপান উতোরের মধ্যেই হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের শেষ প্রহরি প্রভসুখন গিলকে যেমন চার চারটে নিশ্চিত গোল বাঁচাতে হয়েছে। তেমনি জামশেদপুরের গোলরক্ষককেও তিনটে দারুণ সেভ করতে হয়েছে। আবার দিনের সহজতম সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের ইউসেফ এজেজারি হারিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলের এই হারের মূল কারণ যে মধ্য রক্ষণের ব্যর্থতা তা যে কোনও ফুটবলপ্রেমীই বুঝতে পারবেন। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে স্টিফেন এজে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে যে হেডটির মাধ্যমে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে ছুটে এসে গোল করেছে, তা কলকাতা ফুটবলের মধ্যমানের স্টপারও আটকে দিতে পারেন। কিন্তু কেভিন সিবিলে চলে যাওয়ার পর জিকসন সিং যে ভাবে কাজ চালানো স্টপার হিসাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে তাঁর কাছ থেকে এটা হয়তো বেশি চাওয়া হবে। দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রে যেভাবে ওয়াল পাস খেলে রক্ষণকে বিভ্রান্ত করে রেই তাচিকাওয়া গোল করে গেলেন, তা ভালো স্টপারের ক্ষেত্রে কখনই সম্ভব নয়। আনোয়ার আলিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। সে তাঁর কাজটা যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়েই করেছে। কিন্তু জিকসন নিয়মিত স্টপার না হওয়ায় মাঝে মাঝেই ভুল করে ফেলছেন। দল বানানোর সময় এদের পরিবর্ত হিসাবে যে স্টপারের কথা ভাবা হয়েছিল সেই মার্তন্ড রায়নাকে কোচ হয়তো অভিজ্ঞতার কথা ভেবে খেলাতে পারছেন না।
এগিয়ে গিয়েও হার, জয়ের হ্যাটট্রিক অধরাই লাল হলুদের
আর অন্য স্টপার লালচুনুঙ্গার কার্ড দেখার প্রবনতা কোচকে চিন্তায় রাখছে। আর এই ম্যাচের আগে থেকেই মিগুয়েলের কিছু শারীরিক সমস্যা হয়তো ছিল, তার জন্য কোচ তাঁকে কিছুটা বিশ্রাম দিয়েছিলেন। তায় আবার বিপক্ষের অভিজ্ঞ কোচ ওয়েন কয়েলের আগের খেলাগুলো থেকে বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি যে মিগুয়েলকে তাঁর স্বাভাবিক খেলা খেলতে দিলে তাদের মুশকিল আছে। অতএব জামশেদপুরের কোচ মিগুয়েলকে সব সময় মার্কিংয়ে রেখেছিলেন। ইয়সেফ চেষ্টা করেছেন। হয়তো ঠিক জায়গায় পৌঁছেছেনও। কিন্তু গোল করতে পারেননি। কিন্তু অ্যান্টনের খেলার নিরিখে পাস মার্কস পাওয়াও খুব মুশকিল। না করেছেন আক্রমণভাগকে ভালো পাস, না করেছেন সঠিকভাবে রক্ষণকে সহায়তা। তবে প্রথম ম্যাচ দেখেই তার সম্বন্ধে কিছু বিরূপ মন্তব্য করা কতটা ঠিক তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
এই ম্যাচ থেকে একটা জিনিস ইস্টবেঙ্গল পেতে পারে, তা হচ্ছে এই মুহূর্তে গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলের জায়গা দলে পাকা। আর দলে এডমন্ড প্রমাণ করেছেন তাঁকে ছাড়া ইস্টবেঙ্গলের দল এখন অচল। অন্য দিকে জামশেদপুরের কোচ ওয়েন কয়েল একটা জিনিস দেখিয়ে দিয়ে গেলেন বিপক্ষ দলের খেলার পদ্ধতি বিশ্লেষণে তাঁর বেশ মুন্সিয়ানা আছে। আর প্রতিভার বিচারে এবারও জামশেদপুর যে কোনও ISL-এর দলের চিন্তার কারণ হবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
খেলার পর ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো বলেছেন তাঁর দলের কিছু খেলোয়াড়, মানে ইউসেফ এজেজারি, মহম্মদ রাকিপ, মহম্মদ রাশিদ, আনোয়ার আলি রমজান
মাসে রোজা রাখার ফলে খেলার শেষভাগে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। মনে রাখতে হবে জামশেদপুর FC যখন ৮৭ মিনিটে জয়সুচক গোল করছিল তখন তাদের বলটা সাজচ্ছিলেন মাদিহ তালাল আর সানান মহম্মদ। তাদেরও তো রোজা রাখারই কথা। আর কলকাতা ফুটবলে আহমেদ, সালে থেকে হাবিব, আকবর, সাবির আলি রোজার মাসেই মাঠ মাতিয়ে যেমন গোল করেছেন তেমনই অন্যকে দিয়ে গোলও করিয়েছেন। খেলোয়াড় নির্বাচনে ভুল হলে তা স্বীকার করে নেওয়াও কিন্তু একটা বড় কোচের বৈশিষ্ট্য। আশা করি যথেষ্ট ভালো কোচ অস্কার ব্রুজো তা মনে করিয়ে দিতে হবে না। তবে ISL-এর তাজ এখনও অনেক দুরে। সময় আছে সব দলেরই ভুল শুধরে উঠে আসার। ইস্টবেঙ্গলও কিন্তু তার ব্যাতিক্রম নয়।












