ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে চার গোলে হারের ক্ষত এখনও সমর্থকদের মনে টাটকা। সেই ধাক্কা সামলে কলকাতা ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এ বার আইএফএ শিল্ডকেও পাখির চোখ করেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আর শিল্ডের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির বড় বার্তা দিল সবুজ-মেরুন। বৃষ্টিভেজা মাঠে আইএফএলের অন্যতম শক্তিশালী দল শ্রীনিধি ডেকানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান। দলের এই বড় জয়ের মূল নায়ক লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। তাঁর হ্যাটট্রিকেই যেন লেখা ছিল সবুজ মেরুবের জয়।
Mohun Bagan vs Sreenidi Deccan: বৃষ্টির মধ্যেও শুরু থেকেই দাপট বাগানের
ম্যাচের আগে প্রবল বৃষ্টির জেরে মাঠের বেশ কিছু জায়গায় জল জমে গিয়েছিল। ফলে মাটিতে বল রেখে পাস খেলতে শুরুতেই সমস্যায় পড়ছিল দুই দল। তার মধ্যেই জাতীয় দলের শিবিরে থাকায় সাহাল, থাপা, মনবীর ও আপুইয়ার মতো ফুটবলাররা ছিলেন না মোহনবাগানে। কিন্তু সেই অভাব একবারের জন্যও বুঝতে দিলেন না কোচ পানোসের ফুটবলাররা।
৫ মিনিটেই অভিষেক সূর্যবংশীর বাড়ানো বলে শুভাশিস বসুর হেড রুখে দেন শ্রীনিধির গোলরক্ষক কমলজিৎ সিং। তবে এর পর বেশিক্ষণ গোল আটকে রাখতে পারেনি শ্রীনিধি। ৮ মিনিটে প্রাক্তন মোহনবাগান অধিনায়ক প্রীতম কোটালের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল ছিনিয়ে নেন দ্রাজিচ। তাঁর পাস থেকেই বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত গতির শটে গোল করেন তরুণ অভিষেক সূর্যবংশী। ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান।
এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে সবুজ-মেরুন বাহিনী। শ্রীনিধি দলে প্রণয় হালদার, জেরি, নিশু কুমারের মতো পরিচিত মুখ থাকলেও মোহনবাগানের চাপ সামলাতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ৪৪ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে মিগুয়েল বক্সে পাস বাড়ান ছাংতের দিকে। দুই ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের মাঝখান দিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন ছাংতে। (IFA Shield 2026)
খরা কাটল ২৮ বছরের, এশিয়াডে রুপো জিতলেন মীরাবাই চানু
দ্বিতীয়ার্ধে ছাংতের গোলের বন্যা
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। ৫২ মিনিটে জেমি ম্যাকলারেনের বাড়ানো বল নিয়ে দুরন্ত ড্রিবলিংয়ে দুই ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ছাংতে। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই ফের গোল। লিস্টন কোলাসো ও মিগুয়েলের পাসিংয়ের পর বল পেয়ে জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ভারতীয় উইঙ্গার। স্কোর তখন ৪-০।
চার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাকলারেন ও দ্রাজ়িচকে তুলে লি এরউইন, কিয়ান নাসিরি ও সুহেল ভাটকে মাঠে নামান কোচ। তাতেও মোহনবাগানের আক্রমণের ধার কমেনি।
৮১ মিনিটে ছাংতের বাড়ানো বল ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে চলে যায় ফাঁকায় থাকা সন্দীপ মালিকের কাছে। জোরালো শটে গোল করে তিনি স্কোর ৫-০ করেন। এর ঠিক এক মিনিট পরেই ষষ্ঠ গোল। ডান দিক থেকে ছাংতের নিখুঁত ক্রস পেয়ে মাথা ছুঁইয়ে মোহনবাগান জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করেন লি এরউইন। (IFA Shield 2026)
শেষ বাঁশি পর্যন্ত ম্যাচের রাশ ছিল শুধুই মোহনবাগানের পায়ে। ৬-০ ব্যবধানে এই বড় জয় দিয়েই আইএফএ শিল্ড অভিযান শুরু করল সবুজ-মেরুন শিবির। কলকাতা লিগের পর এ বার শিল্ডও ঘরে তোলার লক্ষ্যে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে রাখল মোহনবাগান।











