২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির শেষ ধাপে দাপুটে বার্তা দিয়ে রাখল টিম ইন্ডিয়া। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে ৪–১ ব্যবধানে জিতে আত্মবিশ্বাসী মেজাজেই বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখছে ভারত। প্রথম তিন ম্যাচ জিতেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তিরুবনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে ৪৬ রানের জয় সেই দাপটেই সিলমোহর দেয়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুতে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা দ্রুত ফিরলেও ইনিংসের গতি থামেনি। এরপর পুরো ম্যাচ নিজের দখলে নিয়ে নেন ঈশান কিষান। মাত্র ৪৩ বলে ১০৩ রানের বিধ্বংসী শতরানে কিউয়ি বোলারদের একপ্রকার লণ্ডভণ্ড করে দেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১০টি ছক্কা। সূর্যকুমার ৩০ বলে ৬৩ রান করে যোগ্য সঙ্গ দেন। শেষ দিকে হার্দিক পাণ্ডিয়ার ১৭ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভারত পৌঁছে যায় ৫ উইকেটে ২৭১ রানে—টি–টোয়েন্টিতে দেশের অন্যতম সেরা স্কোর।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও সহজে হার মানেনি নিউ জিল্যান্ড। ফিন অ্যালেন ৩৮ বলে ৮০ রানের তাণ্ডব চালান, রাচিন রবীন্দ্রও দ্রুত রান তোলেন। একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ ঘুরে যেতে পারে। তবে সেখানেই ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠেন অর্শদীপ সিং। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরপর উইকেট তুলে নিয়ে ৫১ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। অক্ষর প্যাটেল নেন ৩টি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ২২৫ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউয়িরা।
সিরিজ জয় হলেও ভারতের সামনে প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেল বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে। ব্যাটিং ইউনিট প্রায় প্রস্তুত, ঈশান কিষানের ফর্ম বিশ্বকাপের আগে বড় স্বস্তি। কিন্তু এত রান তোলার পরেও যদি প্রতিপক্ষ এতটা কাছে পৌঁছে যায়, তাহলে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও নিখুঁত পরিকল্পনা চাই—সেই বার্তাও দিয়ে গেল এই সিরিজ।












