কুশল চক্রবর্তী
ভারতীয় ক্রিকেটের খবর যারা রাখে তাঁরা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ১০ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের কথা। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জম্মু কাশ্মীর দল চার উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল বহুবার রঞ্জি ট্রফি জেতা মুম্বাই দলকে (Ranji Trophy 2026)। সেবার মুম্বই দলে ছিল ওয়াসিম জাফর, শ্রেয়াস আইয়ার, সূর্যকুমার যাদব, ধবল কুলকর্নি, শার্দূল ঠাকুরের মত খেলোয়াড়রা। ১৯৫৯-৬০ সাল থেকে রঞ্জি ট্রফি খেলতে আসা জম্মু কাশ্মীর দলটা যেন হারবার জন্যই এই প্রতিযোগিতা খেলে, একসময় এমনই মনে হতো ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু এই ম্যাচে শুভম খাজুরিয়া, আয়ান দেভ সিং, রাম দয়াল আর উমর নাজিররা ব্যাটে-বলে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে প্রমাণ করে, মুম্বইয়ের মাটিতে মুম্বাইকে ধরাশায়ী করা যায়। চমকে দিয়েছিল তাঁরা ভারতীয় ক্রিকেট মহলকে। তারপর যে জম্মু কাশ্মীর ক্রিকেট রাঞ্জিতে টপাটপ ম্যাচ জিতেছে তা নয় (Jammu and Kashmir Cricket)। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বুঝতে পারছিল যে জম্মু কাশ্মীর দল হিসাবে নিজেদের প্রকাশ করতে না পারলেও, কিছু উদীয়মান খেলোয়াড় এই দলে আছে।
ভালো খেলেও কেন হারতে হলো? বিস্ফোরক মন্তব্য অভিমন্যু ঈশ্বরনের
২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জম্মু আর কাশ্মীর দল মুম্বইকে মুম্বইয়ের মাটিতে আবার হারাতেই সবাই অবাক হয়। এবারও জম্মু আর কাশ্মীরের এই জয়ের পিছনে ছিল শুভম খাজুরিয়ার দারুণ ব্যাটিং আর জুধবির সিং, উমর নজির, সুনীল কুমার আর আকিব নবির অনবদ্য বোলিং। মুম্বইয়ের দলে কিন্তু খেলেছিল শার্দূল ঠাকুর, শ্রেয়াস আইয়ার, রোহিত শর্মা, অজিঙ্ক রাহানের মতো খেলোয়াড়রা। আসলে এবারের জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেট দল প্রথম থেকেই নিজেদের একটু আলাদা ভাবে তৈরি করছিল। আর মধ্যপ্রদেশকে যখন আকিব নবির বিধ্বংসী বোলিং-এ ৫৬ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছল জম্মু ও কাশ্মীর দল তখনই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বুঝতে আরম্ভ করেছিলেন, এবার যে কোনও দলের সঙ্গে লড়ার মানসিকতা নিয়ে জম্মু কাশ্মীরের দল তৈরি হয়ে এসেছে। বিশেষ করে যে ভাবে তাঁরা সেমিফাইনালে বাংলাকে কল্যাণীর মাঠে হারাল, তাতে বার বার বোঝা গিয়েছে এবার জম্মু আর কাশ্মীর ক্রিকেট দল কিছু একটা করতে যাচ্ছে। কল্যাণীতে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে যে খেলাটা তারা ৬ উইকেটে জিতল, তার গতিপ্রকৃতি একবার ভেবে দেখুন। প্রথম ইনিংসে বাংলার ৩২৯ রানের বিপক্ষে যখন তারা ৩ উইকেটে ১৩ রান, তখন থেকে তারা যে ভাবে ৫ উইকেটে ২০৫ রান করল, তাতেই তারা বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, তারা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
জম্মু কাশ্মীরের সবাই যখন ৩০২ রানে বাংলার বিপক্ষে আউট হয়ে গেল। স্বভাবত এটাই ভাবা গিয়েছিল যে, রঞ্জি ট্রফির চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী, প্রথম ইনিংসের এগিয়ে থাকার ফলে বাংলার জেতার সুযোগই বেশী। কিন্তু জম্মু কাশ্মীরের এই দলের মনের জোরই আলাদা। তারা বাংলাকে ৯৯ রানে আউট করে ম্যাচে ফিরল। অভিমন্যু ঈশ্বরন, সুদীপ ঘরামি, অনুষ্টুম মজুমদার, আকাশ দীপ, শাহবাজ আহমেদ সমৃদ্ধ দলকে তাঁরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসাবেই দেখল। এই দলটা বার বার প্রমাণ করেছে, তাঁরা মাঠে নামে দল হিসাবে খেলতে। অন্য দলের কোনও খেলোয়াড়ের নামের প্রতি তাদের বিশেষ নজর নেই। আর একটা জিনিস বার বার জম্মু কাশ্মীর দলটা বুঝিয়েছে, তারা যেহেতু নিজেদের রাজ্যে বিশেষ ম্যাচ খেলতে পারে না, তাই তাদের ঘরের মাঠে সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারটা মাথায় রাখে না। সেমিফাইনাল খেলার পর জম্মু কাশ্মীর দলের নব রূপকার, দলের কোচ, অজয় শর্মা বলেন, “দু’বছর ধরে এই দলটাকে বুঝবার চেষ্টা করেছি। কারণ জম্মু কাশ্মীরের সামগ্রিক সংস্কৃতি একটু অন্য রকমের। এখন মনে হচ্ছে এদের দল হিসাবে আমি বাঁধতে পেরেছি। ওরা আমাকে এখন ওদের প্রিয় অগ্রজ হিসাবেই দেখে।”
দেড় ঘণ্টার ব্যাটিংয়ে ভরাডুবি, রঞ্জি থেকে ছিটকে মুখ খুললেন বাংলার কোচ Laxmi Ratan Shukla
তবে যে মানুষটা এই দলের সঙ্গে না থেকেও নিভৃতে কাজ করে গেছে তার নাম মিথুন মানহাস। রঞ্জির ট্রফির পরিধিতে অতি পরিচিত এই মানুষটাকে প্রথমেই ফোন করেন কোচ অজয় শর্মা। দলের কোচ অজয় শর্মা আর অভিজ্ঞ ব্যাটার ও অধিনায়ক পরশ ডোগরা এক বাক্যে প্রশংসা করেন পেসার আকিব নবির। বলেন, “আশা করি অচিরেই ওর জন্য আসবে খুব ভালো খবর।” এবারের রঞ্জি মরশুমে এখন অবধি ৫৫টা উইকেট নিয়ে জম্মু কাশ্মীর দলকে জয়ের রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয় আকিব নবির জন্য।
এবারের রঞ্জি ফাইনালে জম্মু কাশ্মীরের দল এবার খেলবে কর্নাটকের বিপক্ষে। জম্মু কাশ্মীর দল এখনও অবধি কখনও কর্নাটকের সঙ্গে কোনও ক্রিকেট ম্যাচেই জিতে উঠতে পারেনি এটা ঠিক, তবে এই দল কিন্তু নয় কে হয় করতে সদাই প্রস্তুত।












1 thought on “Ranji Trophy 2026: ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন শক্তি, রঞ্জি ফাইনালে লড়বে জম্মু কাশ্মীর দল”