কানসাস সিটির রাতটা ছিল ইতিহাস ছোঁয়ার রাত। যখন ৭৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দিলেন (Lionel Messi) লিওনেল মেসি, তখন শুধু একটি হ্যাটট্রিকই পূর্ণ হয়নি—ফিফা বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের বিশ্বরেকর্ডও স্পর্শ করলেন আর্জেন্তিনার মহাতারকা। গ্যালারিতে উল্লাস, আর পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্তিনা সমর্থকদের চোখে আবেগের ঢেউ। কলকাতার নীল-সাদা হৃদয়গুলোর কাছেও সকালটা ছিল বিশেষ। কারণ, ফুটবলপ্রেমীরা আরেকবার দেখলেন তাঁদের নায়ককে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও গাঢ় করে লিখে দিতে।
গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, সতীর্থদের আলিঙ্গন আর কোটি কোটি সমর্থকের আবেগের মধ্যে দাঁড়িয়ে আবারও এক চিরস্মরণীয় অধ্যায় লিখলেন (Lionel Messi) মেসি। কানসাস সিটি থেকে কলকাতা —নীল-সাদা সমর্থকদের কাছে এটি শুধুই একটি জয় নয়, প্রিয় তারকার ইতিহাস স্পর্শ করার মুহূর্ত।
Joint-top scorer in @FIFAWorldCup history ✅
— FIFA (@FIFAcom) June 17, 2026
200th Argentina appearance ✅
Record-extending 27th FIFA World Cup appearance ✅
First-ever FIFA World Cup hat-trick ✅
A historic night for Lionel Messi! 🙌 pic.twitter.com/1D4Ubzqzos
বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রয়েছেন—
মিরোস্লাভ ক্লোজে (জার্মানি) – ১৬ গোল
(Lionel Messi) লিওনেল মেসি (আর্জেন্তিনা) – ১৬ গোল
রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল) – ১৫ গোল
গার্ড মুলার (জার্মানি) – ১৪ গোল
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) – ১৪ গোল
Lionel Messi is now the joint top #FIFAWorldCup goalscorer 🔝📊 pic.twitter.com/0wtOUS2ylM
— FIFA World Cup (@FIFAWorldCup) June 17, 2026
‘আমরা কাউকেই ভয় পাই না’, অবসরের জল্পনা উড়িয়ে ইংল্যান্ডকে কড়া বার্তা লুকা মদ্রিচের
কানসাস সিটিতে মেসি ঝড়
কানসাস সিটি, রাতটা যেন আবারও লিওনেল মেসির ছিল। বল যখন তাঁর পায়ে, তখন সময় যেন একটু ধীর হয়ে যায়। গ্যালারিতে নীল-সাদা জার্সির ঢেউ, আর টেলিভিশনের সামনে কলকাতার হাজার হাজার আর্জেন্তিনা সমর্থকের চোখে একই প্রত্যাশা—‘আজও কি কিছু বিশেষ হবে?’ উত্তরটা দিয়েছেন স্বয়ং মেসি। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্তিনা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল। শুধু জয় নয়, এই রাত (Lionel Messi) মেসিকে নিয়ে গেল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের গোলদাতাদের তালিকায় কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের আরও কাছাকাছি। স্টেডিয়াম তখন শুধুই মেসিময়।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না। চতুর্থ মিনিটেই অফসাইডে ধরা পড়েন লাউতারো মার্তিনেজ। মিনিটখানেক পরে একই ভাগ্য হয় মেসিরও। আলজেরিয়াও পাল্টা আক্রমণে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। অষ্টম মিনিটে ফারেস শাইবি বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোল বাতিল হয়ে যায়। সেই মুহূর্তটাই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
প্রথম ১৫ মিনিটে আলজেরিয়া আক্রমণে সাহসী ছিল। উইং ব্যবহার করে দ্রুত উঠে আসছিল তারা। বিশেষ করে শাইবি এবং আনিস হাজ মুসার গতিতে আর্জেন্তিনার ডিফেন্স কয়েকবার চাপে পড়ে। তবে শেষ তৃতীয়াংশে ফিনিশিংয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুর্বলতা তাদের ভুগিয়েছে।
১৭ মিনিটে এল সেই মুহূর্ত, যার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সমর্থকেরা। মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ শটে বল জড়িয়ে দেন জালে (Lionel Messi) মেসি। লুকা জিদানের কোনও সুযোগই ছিল না। স্কোরলাইন ১-০।
20 years of Messi ✨#FIFAWorldCup
— FIFA World Cup (@FIFAWorldCup) June 17, 2026
এরপর আর্জেন্তিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিলেও মেসির ক্ষুধা কমেনি। ৩৭ ও ৩৯ মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর দুটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে ৪১, ৪৪ ও ৪৫ মিনিটে শাইবির একের পর এক প্রচেষ্টা আর্জেন্টিনাকে সতর্ক রাখে। তবে গোলের দেখা পায়নি আলজেরিয়া।
বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি দ্রুত পরিবর্তন আনেন। গনসালো মন্তিয়েলের জায়গায় নামেন নাহুয়েল মোলিনা। পরে নিকো গনসালেস ও হুলিয়ান আলভারেজও মাঠে আসেন। আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়।
৫৪ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লাউতারোর শট দারুণভাবে বাঁচান লুকা জিদান। কিন্তু সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। ৬০ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।
মজার বিষয়, আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ প্রথমার্ধে রিয়াদ মাহরেজকে নামাননি। সম্ভবত ম্যাচের গতি ও শক্তি ধরে রাখতে অভিজ্ঞ উইঙ্গারকে দ্বিতীয়ার্ধের জন্য তুলে রেখেছিলেন। আর্জেন্তিনা যখন বলের দখল বাড়াচ্ছিল, তখন মাহরেজের সৃজনশীলতা দিয়ে ম্যাচে নতুন মাত্রা আনার পরিকল্পনা ছিল। ৬৪ মিনিটে মাহরেজ, হৌসেম আউয়ার ও মোহাম্মদ আমুরাকে একসঙ্গে নামানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ অনেকটাই হাতছাড়া।
৬৬ মিনিটে আবারও মেসির দূরপাল্লার শট উড়ে যায় জিদানের গ্লাভসে। তবে ৭৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। নিকো গনসালেসের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক (Lionel Messi)। কানসাস সিটি স্টেডিয়াম তখন যেন শুধুই ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে মুখর।
বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক মেসির, চ্যাম্পিয়নদের মতোই শুরু আর্জেন্তিনার
৮০ মিনিটে দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মধ্যে মাঠ ছাড়েন (Lionel Messi) তিনি। তাঁর জায়গায় নামেন নিকো পাজ। সঙ্গে নিকোলাস ওতামেন্দি বদলি হিসেবে আসেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর পরিবর্তে।
শেষদিকে মাহরেজ একটি দূরপাল্লার শট নিলেও তা ব্লক হয়ে যায়। বাড়তি সময়েও আলজেরিয়া গোলের মুখ খুলতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজতেই স্কোরবোর্ডে ৩-০। কিন্তু সংখ্যার বাইরেও এই ম্যাচ ছিল আবেগের। ছিল এক মহাতারকার আরেকটি স্মরণীয় রাত। বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বকালের রেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছে গেলেন (Lionel Messi) লিওনেল মেসি। আর কলকাতার আর্জেন্তিনা-প্রেমী সমর্থকদের জন্য? আজকের সকাল চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলার খেলাধুলায় ‘ক্লিন-আপ ড্রাইভ’, থ্রেট কালচার বন্ধে কড়া বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রীর












1 thought on “হ্যাটট্রিকে ‘১৬’-তে, ক্লোজের বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ইতিহাসে মেসি”