মহম্মদ শামি, লক্ষ্মীরতন শুক্লদের পর এ বার SIR শুনানির নোটিস পেলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার মেহতাব হোসেন। সম্প্রতি তাঁর হাতে নোটিস পৌঁছতেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশের জার্সিতে প্রতিনিধিত্ব করার পরও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি প্রমাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হওয়ায় হতাশ মেহতাব প্রশ্ন তুলেছেন গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই।
বাংলা ও ভারতীয় ফুটবলের পরিচিত মুখ মেহতাব অতীতে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান—কলকাতার দুই প্রধান ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি ৩৩টি ম্যাচ খেলেছেন। সেই অভিজ্ঞ ফুটবলারকেই এবার SIR শুনানির জন্য ১ ফেব্রুয়ারি মল্লিকপুরের আব্দুস শকুর হাইস্কুলে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিউ টাউনে থাকলেও আদি বাড়ি মল্লিকপুরেই এবং এখনও সেখানকার ভোটার হওয়ায় ওই কেন্দ্রেই তাঁকে ডাকা হয়েছে।
মেহতাব জানিয়েছেন, তালিকায় তাঁর মায়ের নামের বানানভুল ও নথিতে গড়মিলের জেরেই এই নোটিস। তিনি বলেন, ‘দেশের হয়ে এত বছর খেলেও যদি নিজেকে নাগরিক প্রমাণ করতে লাইনে দাঁড়াতে হয়, তা হলে কষ্ট তো লাগেই।’ তাঁর মতে, শুধু তাঁর ক্ষেত্রেই নয়, বহু বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষকেও এইভাবে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা মানবিক দিক থেকে ভাবা উচিত। প্রয়োজনে বাড়িতে প্রতিনিধি পাঠিয়ে নথি যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও মত তাঁর।
অন্যদিকে, একই প্রক্রিয়ায় আগে নোটিস পাওয়া মহম্মদ সামি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার জন্য এই যাচাই প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় এবং এতে কারও ক্ষতি হচ্ছে না। তবে মেহতাবের বক্তব্যে স্পষ্ট, জাতীয় স্তরের ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেও এমন জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েই। বর্তমানে বেঙ্গল সুপার লিগে সুন্দরবন অটো এফসি-র কোচ হিসেবে ব্যস্ত মেহতাবের উপর এই নোটিস বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।












