[ছবি:এক্স]
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হৃদয়বিদারক হারের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের লড়াই এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছিলেন কঙ্গোর প্রধান কোচ (Sebastien Desabre) সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই ক্রীড়া-আলোচনা পরিণত হল এক গভীর ব্যক্তিগত শোকে। সাংবাদিক বৈঠকের মাঝেই জানতে পারলেন, আর নেই তাঁর বাবা।
মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকে বিদায় নিয়েছে কঙ্গো ডিআর। ম্যাচের পর নিয়মমাফিক সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী (Sebastien Desabre) দেশাব্রে। তিনি তখনও দলের সাহসী পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করছিলেন। ঠিক সেই সময় দলের এক যোগাযোগ আধিকারিক ফরাসি ভাষায় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “ধন্যবাদ, কিন্তু আমরা জানাতে চাই যে কোচ তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। আমরা তাঁর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
মুহূর্তের মধ্যে গোটা কক্ষ নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
🇨🇩💔 En medio de la conferencia de prensa, el equipo de comunicación de Congo anunció el fallecimiento del padre Sebastien Desabre, DT de la selección.#MundialEnDSPORTS #FIFAWorldCup pic.twitter.com/T6v7d7WbbM
— DSPORTS (@DSports) July 2, 2026
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যায়, স্তব্ধ হয়ে চারদিকে তাকাচ্ছেন (Sebastien Desabre) দেশাব্রে। কিছুক্ষণ পর শুধুমাত্র “মার্সি” (ধন্যবাদ) বলে আসন ছেড়ে উঠে চলে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই শেষ করে দেওয়া হয় সাংবাদিক সম্মেলন। তিনি আগে থেকেই বাবার মৃত্যুসংবাদ জানতেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে, খবরটি তাঁর কাছেও সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল।
এর কয়েক মিনিট আগেই শেষ হয়েছিল কঙ্গোর ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযান। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম গোল ইংল্যান্ডকে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষদিকে অধিনায়ক হ্যারি কেনের জোড়া গোল ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় এনে দেয় এবং শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচ নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে (Sebastien Desabre) দেশাব্রে বলেছিলেন, “আমরা হতাশ, কারণ আমরা সত্যিই বিশ্বাস করেছিলাম যে জিততে পারব। আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার আমাদের বিরূদ্ধে দুটি সুযোগ পেয়েই দুটি গোল করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”
(Sebastien Desabre) তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের ফুটবলারদের অভিনন্দন জানাতেই হবে। তারা এই টুর্নামেন্ট থেকে অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আমাদের হয়তো অভিজ্ঞতার কিছু অভাব ছিল, কিন্তু আমরা শিখছি এবং আরও উন্নতি করছি।”
দেশাব্রের হাত ধরেই কঙ্গো ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করে। শুধু তাই নয়, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও পৌঁছেছিল তারা। ফলে মাঠের সাফল্যের মাঝেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত আঘাতের মুখোমুখি হলেন এই কোচ।
এই কঠিন সময়ে সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে ও তাঁর পরিবারের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা এবং শ্রদ্ধা।
আরও পড়ুন: পেনাল্টি নিতে অস্বীকার জার্মানির ৪ ফুটবলারের, দেশের থেকে স্বার্থ আগে? শুরু বিতর্ক










1 thought on “বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, বেদনার মাঝেই আরও শোক! সাংবাদিক বৈঠকের মাঝেই বাবার মৃত্যুসংবাদ কঙ্গোর কোচের”