---Advertisement---
lifezone nursing home

Tutu Bose: টুটু বসুর প্রিয় ডিমের ডেভিলেই আজ শেষ শ্রদ্ধা, মোহনবাগান ক্যান্টিনে আবেগের ঢেউ

May 13, 2026 5:29 PM
Tutu Bose
---Advertisement---

মোহনবাগান ক্লাব মানে শুধু ফুটবল নয়— এক অনুভূতি, এক পরিবার, এক দীর্ঘ ইতিহাস। আর সেই পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অভিভাবক ছিলেন স্বপন সাধন বসু, যাকে সবাই চেনেন ‘টুটু বসু’ (Tutu Bose) নামে। সেই ইতিহাসে আজ এক গভীর শূন্যতা। মঙ্গলবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়াতেই শুধু ক্লাব নয়, পুরো ভারতীয় ক্রীড়াজগতে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। যিনি ছিলেন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি, এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কিন্তু তার থেকেও বড় পরিচয় ছিল—তিনি ছিলেন ক্লাবের প্রতিটি মানুষের “টুটুবাবু”, এক অভিভাবকসুলভ উপস্থিতি। যাঁর হাসি, উপস্থিতি আর সহজ আন্তরিকতা ক্লাবের প্রতিটা কোণায় ছড়িয়ে ছিল।

আজ ক্লাব ক্যান্টিনে দৃশ্যটা অন্যরকম। নীরবতা ভারী হয়ে আছে। যে জায়গায় প্রতিদিন চপ-কাটলেট, ডিমের ডেভিল আর চায়ের আড্ডা জমত, সেখানে আজ শুধুই স্মৃতিচারণা।

(Tutu Bose) টুটু বসুর প্রিয় ডিমের ডেভিল আজ সদস্য ও সমর্থকদের পাতে। সেই ক্যান্টিনে আজ ভিড় উপচে পড়ছে, কেউ পুরোনো গল্প করছেন কেউ বা শুধু চুপ করে বসে আছেন। ক্লাবের বহু পুরনো কর্মচারী, রাঁধুনি, সমর্থক—সবাই যেন একসঙ্গে স্মৃতির ভেতরে হারিয়ে যাচ্ছেন। ফনি ও প্রতাপ, যাঁরা প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে ক্যান্টিনে কাজ করছেন, তাঁরা বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই দিনগুলিতে, যখন টুটু বসু হেসে হেসে এসে বলতেন—“কাজু, ডেভিলটা তাড়াতাড়ি দাও।”

একজন দীর্ঘদিনের কর্মী প্রতাপ বলেন, “ডিমের ডেভিল খুব পছন্দ করতেন উনি। বলতেন আমার জন্য কাজু ডেভিল নিয়ে আসো। আমরা জানতাম, উনি এলে তিন-চারটে ডেভিল একেবারে খেয়ে নিতেন আর সঙ্গে দুধ চা। আজ ভাবতেই পারছি না উনি এভাবে চলে যাবেন।”

ক্যান্টিন পরিচালক পলাশ মুখোপাধ্যায়, যিনি ‘কাজুদা’ নামেই বেশি পরিচিত, তাঁর গলায় কাঁপন স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আজকের মতো দুঃখের দিন আর নেই। আর কী বলার আছে! টুটুবাবুর প্রিয় ছিল ডিমের ডেভিল, চিকেন স্টু, মরিচ টোস্ট আর গ্লাসে করে চা। ক্যান্টিন নিয়ে উনি বলতেন এটা সুন্দরভাবে চালাবে। সবাই আমাকে কাজু নামেই চেনেন, উনিও তাই ডাকতেন। এমন মানুষ বারবার আসে না।”

উনি শুধু একজন সভাপতি ছিলেন না, মোহনবাগান পরিবারের অংশ ছিলেন। মোহনবাগান সমর্থকরাও আজ আবেগে ভেসে যাচ্ছেন। অনেকেই ক্যান্টিনের সেই পুরনো স্বাদ, সেই ডিমের ডেভিলকে আজ স্মরণ করছেন। একজন সমর্থক আবেগে বলেন, “উনি দুহাতে দুটো রোল খেতেন। সত্যিই ভীষণ খাদ্যরসিক ছিলেন। “ওনার নাম টুটু বোস যে নাম না শুনেছে তার কপালে দোষ, টু অ্যান্ড টু যোগ করলে চার, গুণ করলেও চার, বন্ধ করো দ্বার। —এমন মজার ছন্দও আমরা বলতাম।”

ক্লাবের পরিবেশ আজ অন্যরকম। কোথাও উচ্চস্বরে কথা নেই, নেই হাসির শব্দ। শুধু আছে স্মৃতি, আর এক নীরব শ্রদ্ধা। আজ সদস্য-সমর্থকদের মধ্যে পরিবেশন করা হচ্ছে (Tutu Bose) টুটু বসুর প্রিয় ডিমের ডেভিল—একটি প্রতীকী শ্রদ্ধা, এক আবেগঘন বিদায়।

মোহনবাগান শিবিরের অনেকেই বলছেন, তিনি শুধু একজন প্রশাসক ছিলেন না—তিনি (Tutu Bose) ছিলেন ক্যান্টিনের হাসি, কর্মীদের আপনজন, আর সমর্থকদের কাছে এক প্রিয় মানুষ।

আজ প্রতিটি পরিবেশন যেন এক নীরব প্রার্থনা হয়ে উঠছে—“টুটুবাবু, আপনি ভালো থাকুন।” তিনি নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি রয়ে গেছে ক্যান্টিনের প্রতিটি কোণে, প্রতিটি চায়ের কাপের উষ্ণতায়, আর প্রতিটি ডিমের ডেভিলের স্বাদে। মোহনবাগান তাঁকে শুধু হারায়নি , (Tutu Bose) তিনি ছিলেন , আছেন আর থাকবেন —তাঁকে চিরদিনের জন্য নিজের অংশ করে নিয়েছে মোহনবাগান ।

প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি টুটু বসু, শোকস্তব্ধ ভারতীয় ক্রীড়াজগৎ: Tutu Bose: টুটু বসুর প্রিয় ডিমের ডেভিলেই আজ শেষ শ্রদ্ধা, মোহনবাগান ক্যান্টিনে আবেগের ঢেউ

Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment