(Tilottoma Case) অভয়া ধর্ষণ ও খুন মামলায় ফের বিস্ফোরক দাবি মা ও বাবার। ফরেনসিক পরীক্ষাগারে নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভয়ার বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথ এবং মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁদের দাবি, প্রাক্তন এক ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো চিঠিতে এই গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
(Tilottoma Case) অভয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথ দাবি করেছেন, গত মে মাসে তাঁরা একটি চিঠি পান, যা এক প্রাক্তন ফরেনসিক আধিকারিক পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরেনসিক পরীক্ষাগারের তিন আধিকারিক সংগ্রহ করা নমুনা নষ্ট করেছেন।
শেখররঞ্জন দেবনাথ জানান, চিঠিটি পাওয়ার পরই তিনি তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাওজার কাছে তা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায়, ওই তথ্যদাতা ব্যক্তি ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে পুনরায় স্পিড পোস্টের মাধ্যমে আরেকটি চিঠি পাঠান। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বেলেঘাটার সেন্ট্রাল স্টেট ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে (CSFL) তথ্যপ্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নমুনায় কারচুপি করা হয়েছে।
তবে বিচার প্রক্রিয়ার স্বার্থে অভিযুক্ত আধিকারিকদের নাম প্রকাশ করতে চাননি শেখররঞ্জন দেবনাথ। (Tilottoma Case) একইসঙ্গে তিনি অনুরোধ করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মামলার গোপন তথ্য প্রকাশ না করার জন্য। তাঁর বক্তব্য, “কেসের তথ্য যদি আগেই বাইরে চলে যায়, তাহলে অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যাবে এবং বিচার পেতে আরও দেরি হবে।”
অন্যদিকে, তিলোত্তমার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ আরও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। (Tilottoma Case) তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন এক CSFL কর্মী চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সংগ্রহ করা নমুনাগুলি চার দিন পর্যন্ত কোনও সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছাড়াই পড়ে ছিল এবং নমুনা সংগ্রহের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা গ্লাভসও ব্যবহার করেননি।
আরও পড়ুন: তৃতীয়বার সংসার পাতছেন আমির খান, ৫ জুলাই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিয়ে গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে
রত্না দেবনাথ বলেন, “সিবিআই বারবার বলছে ডিএনএ নমুনা দূষিত হয়েছে। একজন মহিলার ডিএনএ পাওয়া গেলেও, সেই ব্যক্তির পরিচয় এখনও তদন্তে জানা যায়নি। এটা স্পষ্ট যে, প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে অনিয়ম করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্তের সময় তাঁরা টালা থানায় অবস্থান করলেও, নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জি জোর করে গ্রিন করিডোর ব্যবহার করে তাঁর মেয়ের দেহ বাড়িতে পৌঁছে দেন। তাঁর ভাষায়, “আমার মেয়েকে কার্যত বেওয়ারিশ লাশের মতো বাড়িতে ফেলে রেখে দ্রুত দাহ করে দেওয়াই ছিল ওদের উদ্দেশ্য।”
স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রত্না দেবনাথ দাবি করেন, (Tilottoma Case) আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এখনও প্রকৃত অপরাধীরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তিনি সুমিত রায় তাপাদার, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং অন্যান্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর বাথরুম এবং পিজিটি রুম ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তও ছিল প্রমাণ নষ্ট করার বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ।
(Tilottoma Case) সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রত্না দেবনাথ সরাসরি অভিযোগ করেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এসব হয়েছে। তাঁর প্রশ্রয়েই একাধিক সন্দীপ ঘোষ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে।”
এদিকে, দেবনাথ পরিবারের তোলা এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নমুনা নষ্ট করা, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের অভিযোগের ফলে অভয়া ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্ত নিয়ে আরও একবার গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দেবনাথ পরিবারের দাবি, প্রকৃত অপরাধী এবং প্রমাণ নষ্টের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিচার পাওয়ার লড়াই চলবে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে আদিবাসী কিশোরীকে ‘গণধর্ষণ‘, গ্রেফতার ৪; অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, বিক্ষোভ









