মাঘের শেষে সাময়িক শীত ফিরলেও ইডেনে বিশ্বকাপের উত্তাপ তাতে খুব একটা ধাক্কা খেল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনের দিনে ভারতের ম্যাচ কলকাতায় না থাকলেও ক্রিকেটপ্রেমীদের টান উপেক্ষা করা গেল না। শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি ছিল মন্দের ভালো—আয়োজকদের আশঙ্কা খানিকটা হলেও কাটল।
ম্যাচের ৯৬ ঘণ্টা আগে টিকিট বিক্রির করুণ অবস্থা দেখে উদ্বেগে ছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)-এর কর্তারা। আইসিসি টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক হলেও কলকাতা পর্বের দায়িত্বে রয়েছে সিএবি। ভারতের ম্যাচ না থাকায় গ্যালারি ফাঁকা থাকবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা পুরোপুরি হতাশাজনক হয়নি। শনিবার বিকেলের দিকে জানা যায়, ইডেনে প্রায় ১১ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন, খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাও বাড়ে।
যদিও ইডেনের পরিচিত চেহারা এবার কিছুটা বদলে গেছে। বটতলায় পতাকা কেনার ভিড় নেই, মুখে রং বা ট্যাটু আঁকার উন্মাদনাও অনুপস্থিত। টিকিট ব্ল্যাকের গল্প শোনা যায়নি। তবু ক্রিকেটের নন্দনকাননে বিশ্বকাপ মানেই আলাদা আবহ। গ্যালারিতে হাজির ছিলেন কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা, সঙ্গে বিদেশি দর্শকরাও। জার্মানি, স্কটল্যান্ড-সহ একাধিক দেশ থেকে আসা সমর্থকদের অনেকের কাছেই ইডেনে প্রথমবার খেলা দেখার অভিজ্ঞতা। ক্যারিবিয়ান সমর্থকেরাও রঙিন পোশাকে দলকে সমর্থন করতে হাজির হন—ইডেনেই তো শেষবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়।

সিএবির বিশেষ উদ্যোগে জি-ব্লকে স্কুল ও ক্রিকেট অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। তবে গ্যালারির ভিড়ের তুলনায় মাঠের বাইরে জার্সি বিক্রি বা মুখে ট্যাটু আঁকার বাজার একেবারেই চুপচাপ। স্কটল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জার্সি না থাকায় বেশিরভাগই ভারতীয় তারকাদের নামাঙ্কিত জার্সি কিনেছেন।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে ইডেন চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তিন স্তরের নিরাপত্তা, গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও পার্কিং বন্ধ রেখে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রিত করা হয়। সব মিলিয়ে ভারতের ম্যাচ না থাকলেও, ক্রিকেটের টানেই ইডেনে হাজির হলো হাজার হাজার দর্শক—শান্ত হলেও আবেগহীন নয়, এই বিশ্বকাপের কলকাতা অধ্যায়।
T20 বিশ্বকাপে বাবরের ‘টেস্ট ইনিংস’, কোনওমতে নেদারল্যান্ডসকে হারাল পাকিস্তান












