ফ্যাশন জগত থেকে সক্রিয় রাজনীতি। মোটেও সহজ ছিল না পথ। একসময়ে ফ্যাশন জগতে সফল ডিজাইনার হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। সমাজমাধ্যম ও তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার ছাপ স্পষ্ট থাকত। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মাত্র সাত বছরে অগ্নিমিত্রার উত্থান উল্কার গতিতে। আসানসোলের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা অগ্নিমিত্রার বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।
অগ্নিমিত্রা পাল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বনওয়ারিলাল ভালোটিয়া কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় পড়াশোনা করেন। পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট পড়ার সময় সকালে সময় কাটানোর জন্য ভর্তি হন বিরলা ইনস্টিটিউট অফ লিবারাল আর্টস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সে। সেখান থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা করার পর নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার অন্যতম সম্ভাবনাময় ডিজাইনার। তারপর থেকেই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ও সমাজমাধ্যমে বিজেপির প্রধান প্রতিবাদী মুখ হয়ে ওঠেন অগ্নিমিত্রা।
২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর রাজনীতির পরিসর আরও বাড়তে থাকে। নারী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিজেপির মহিলা মোর্চার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে রাজপথে হাঁটতে দেখা যায়। ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে প্রথম আসানসোল দক্ষিণ থেকে দাঁড়ান অগ্নিমিত্রা। ২০২১ থেকে টানা সেই কেন্দ্রেরই বিধয়াক ছিলেন তিনি। আসানসোল কেন্দ্রের তৎকলীন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে হওয়া নানা আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে উঠে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। ২০২৬-শেও এই কেন্দ্রটি ধরে রাখলেন। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে ৪০,০০০-এর বেশি ভোটে হারান তিনি। এই জয় দলে তাঁর অবস্থান আরও মজবুত করেছে এবং তাঁকে বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান মহিলা নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ৫১ বছর বয়সী এই নেত্রীর বিরুদ্ধে বর্তমানে ২৩টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেআইনি সমাবেশ, সহিংস বিক্ষোভ, দাঙ্গা, সরকারি আদেশ অমান্য এবং জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো অভিযোগ রয়েছে। কিছু মামলায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগ থাকলেও, কোনওটিতেই তিনি এখন পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হননি তিনি।










