ফুটপাত দখল, হকার পুনর্বাসন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে কেন্দ্রের প্রকল্প—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একাধিক বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার কোনওভাবেই খর্ব হতে দেওয়া হবে না এবং ফুটপাত দখল করে রাখার সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হবে না।
হকার ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের। সেটা দখল করার অধিকার কারও নেই। জনগণের স্বার্থই আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে, কোনও মুষ্টিমেয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়।” তাঁর বক্তব্য, যেখানে মানুষের চলাচলে কোনও সমস্যা নেই বা সরকারি ফাঁকা জমিতে কেউ জীবিকার তাগিদে বসে আছেন, সেখানে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হবে। তবে কলকাতা ও শহরতলির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, ফুটপাত বা জনবহুল এলাকাগুলি দখল করে রাখার প্রবণতা চলবে না। খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাজার ও নিউ মার্কেট এলাকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না।
একইসঙ্গে হকারদের জন্য কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, যারা প্রকৃতপক্ষে জীবিকার জন্য সহায়তা চান, তাঁদের জন্য ভারত সরকারের একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার দিকেই সরকার গুরুত্ব দেবে।
৫ ঘণ্টার জেরাতেও মেলেনি সন্তোষজনক উত্তর, ফের ১৪ জুন তলব অভিষেককে
সাংবাদিক বৈঠকে শিল্পায়নের প্রসঙ্গেও জোর দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগ আনার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু করেছে। বিশেষ করে টাটা গোষ্ঠীকে আবার বাংলায় আনার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। সিঙ্গুর প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে ওই জমি সরকারের হাতে নেই, কৃষকদের কাছেই মালিকানা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জমি নিয়ে কোনও সমস্যা নেই এবং শিল্প স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে।
(CM Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে শিল্পপতিরা বাংলায় আসতে চান, তাঁদের অতীত ব্যবসায়িক রেকর্ড খতিয়ে দেখা হবে। আর্থিক জালিয়াতি, জমি নিয়ে অনিয়ম বা শুধুমাত্র জমি দখল করে রাখার প্রবণতা থাকলে অনুমতি দেওয়া হবে না।” ইতিমধ্যেই শিল্প সচিব বন্দনা যাদবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই কমিটি সম্ভাব্য প্রকল্পগুলি যাচাই-বাছাই করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে রেল-কেন্দ্রিক শিল্প গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। কাঁচড়াপাড়া, খড়গপুর-সহ বিভিন্ন রেল ওয়ার্কশপের সম্প্রসারণের প্রস্তাব তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে রেখেছেন বলে জানান। তাঁর মতে, রেলের ওয়াগন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রসার ঘটলে কয়েক হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রয়াত ভারতীয় শুটিং কিংবদন্তি যশপাল রানা, শোকস্তব্ধ ক্রীড়াজগৎ, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
এছাড়া তিনি (CM Suvendu Adhikari) বলেন, যত গুলো রাজ্য বেকার শূন্য হয়েছে, সেখানে তিন ধরনের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। প্রথমত, রাজ্যে স্তরের বিভিন্ন ভ্যাক্যান্সি যোগ্য মেধাবীদের দেওয়া, পুলিশ থেকে শুরু করে শিক্ষক পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর মুদ্রা যোজনা থেকে শুরু করে ছোট বড় ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্কিং এর সুবিধা পাইয়ে দিয়ে, বেকার যুবকদের সাবসিডি যুক্ত ব্যবসা গুলোতে সাহায্য করে কর্মসংস্থানের উন্নতি করা হয়েছে। MSME সেক্টর এবং ভারী শিল্প সঙ্গে ফুড প্রসেসিং, হর্টিকালচার, ফিশারি সহ অন্যান্য সেক্টরগুলোতে আমরা ছোট, মাঝারি এবং বড় প্রসেসিং ইউনিট গড়ার মধ্য দিয়ে শিল্প গড়তে পারি। এই তিন ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে, বেকার সমস্যা দূর হবে, পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে আসবে, বেহাল অর্থনীতি রাজস্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে আমরা এগোতে পারব। ভারী শিল্প এলে পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটে।
এদিন কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন, সূর্যঘর প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ, বন্দে ভারত ট্রেন এবং কল্যাণীর এইমসের চিকিৎসার মতো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তারকেশ্বর সফরের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। (CM Suvendu Adhikari) তাঁর দাবি, ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক নতুন প্রকল্পের সূচনা হতে পারে। পাশাপাশি আগামী ২২ তারিখ বাজেটে শিল্প, কর্মসংস্থান এবং স্বনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গঠনের রূপরেখাও স্পষ্ট হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। (CM Suvendu Adhikari) তিনি বলেন, “যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আমার থেকে খারাপ মুখ্যমন্ত্রী আর কেউ দেখবে না।” প্রশাসনের প্রতি তাঁর বার্তা, জনস্বার্থ রক্ষায় কোনও আপস করা হবে না।
দীর্ঘ নীরবতার পর বিস্ফোরক কেষ্ট, ‘I-PAC এসেছে, দল শেষ হয়েছে’
সব মিলিয়ে, হকার সমস্যা সমাধান থেকে শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।










