বিধানসভায় প্রথম দিন নজর কাড়লেন ‘আদি’ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কখনও তিনি ভবনের ভেতর বিধায়ক সজল ঘোষকে পুরনো সম্পর্কে কথা মনে করালেন। কখনও আবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চূড়ান্ত নিশানা করলেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সংবাদ মাধ্যমের নজর কাড়ল কুণাল ঘোষের গলায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা। ( Kunal Ghosh)
বিরোধী দলনেতা থাকার সময়ে শুভেন্দু অধিকারীকে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার বিঁধতে হয়েছিল কুণাল ঘোষের কাছ থেকে। আর এবার সেই কুণালের মুখেই শোনা গেল শুভেন্দুর প্রশংসা। মঙ্গলবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি, নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা কোনওমতে বরদাস্ত করা হবে না বলে তাঁর ভাষণে বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ চলার সময় কুণাল দুর্নীতির তদন্তে তাঁর এবং দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে চান। স্পিকার সে সময় কুণালকে থামতে বলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধে কুণালকে মাইক দেওয়া হয়। শুভেন্দুর এহেন সৌজন্যের প্রশংসাই শোনা গেল কুণালের গলায়। ( Kunal Ghosh)
পরে সাংবাদিক সম্মেলনে কুণাল ঘোষ বলেন, “যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী ওনার ভাষণের মাঝে আমাকে বলার সুযোগ দিয়েছেন, আমাকে মাইকে বলতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” ( Kunal Ghosh)
পরে কুণাল বলেন, দুর্নীতি রোধে এবং দুর্নীতির তদন্তে যে কথাগুলো মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যে কোনও রকম সঠিক তদন্তে আমরাও সরকারকে সবরকম সাহায্য করব। পাশাপাশি নজর রাখব পুরোটাই যেন কথার কথা না হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তে সব রকম সাহায্য করতে আমরা প্রস্তুত।” ( Kunal Ghosh)
পাশাপাশি এদিন, কুণালের নিশানায় ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অবিলম্বে ঋতব্রতর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের তদন্ত শুরু করার দাবিও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বিধানসভার ভাষণে রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী দুজনেই নারী নির্যাতন রোধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। কিন্তু আশ্চর্য, বিধানসভার অধ্যক্ষ যাঁকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধেই নারী নির্যাতনের, ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এটা কোনওভাবেই চলতে পারে না।” ( Kunal Ghosh)
এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে, তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন অভয়া বা তামান্নার উপর নির্যাতনের তদন্ত হবে। আমরাও সেটাই চাই। সঠিক পথে সঠিক তদন্ত। তবে একইসঙ্গে দাবি তুলব বালুরঘাটের মহিলার উপর নির্যাতনের তদন্তও যেন হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বাসিন্দা সিপিএমের তৎকালীন সংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেদিনের সেই ঋতব্রত পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের টিকিটের সংসদে যান। বর্তমানে তিনিই বিদ্রোহী তৃণমূল গোষ্ঠীর প্রধান মুখ এবং রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। ( Kunal Ghosh)
আরও পড়ুন :- অভিষেক সাসপেন্ড! ‘নতুন তৃণমূল’-এর বড় সিদ্ধান্তে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ









