রবিবার রাতেই কলকাতায় এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। সোমবার সকালে রাজারহাটের এক হোটেলে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৈঠকে সব দলই রাজ্যে এক বা দু’দফায় ভোটের আর্জি জানিয়েছে। সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে। কমিশনের বৈঠকে রাজ্যের ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে সরব হয় তৃণমূল এবং সিপিএম।
কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন শিশির বাজোরিয়া, তাপস রায়, ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ভোট সংক্রান্ত মোট ১৬ দফা দাবি জানিয়েছেন বিজেপির প্রতিনিধিরা। তার মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোটর দাবি ছিল অন্যতম।
তৃণমূলের তরফে কমিশনের বৈঠকে যোগ দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্ষ, ফিরহাদ হাকিম, রাজীব কুমার। বৈঠক সেরে বেরিয়েই কমিশনকে তুলোধোনা করলেন চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, এসআইআর নিয়ে কিছু বললেই, সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে বলে এড়িয়ে যায় কমিশন। চন্দ্রিমার প্রশ্ন, তাহলে তাঁদের কেন ডাকা হলো? ডাকা হয়েছে যখন, কথা শুনতেই হবে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াটা কি অন্যায় ? এরপরেই জ্ঞানেশের আচরণে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, আমি মহিলা, আমাকে বলছেন ডোন্ট শাউট ! মহিলাদের প্রতি ওঁদের শ্রদ্ধা নেই। তাই মহিলাদের নামও কেটে দিচ্ছে। মহিলাদের উপর চেঁচানোটা আপনাদের কাজ নয়। চন্দ্রিমার আরও দাবি, জ্ঞানেশের আচরণে তিনি অসন্তুষ্ট। জ্ঞানেশ তাঁর সঙ্গে যথাযথ ভাবে কথা বলেননি বলেও অভিযোগ চন্দ্রিমার। ফিরহাদের দাবি, এসআইআর-এর কারণে রাজ্যে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যান কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। দল ছিলেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাঁরা জানান, এক দফায় ভোট হলেই ভাল হয়। তবে দফা তাঁদের অগ্রাধিকার নয়। নিরপেক্ষ, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট চান তাঁরা। এর জন্য দফার সংখ্যা বেশি হলেও আপত্তি নেই কংগ্রেসের।
সিপিএমের তরফে এদিনের বৈঠকে ছিলেন মহম্মদ সেলিম, আফ্রিন বেগম এবং শমীক লাহিড়ী। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সেলিম বলেন, তাঁরা জানতে চেয়েছেন কমিশন ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মানুষকে শত্রু বানালো কেন? মানুষের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ ঘোষণা করল ? কেন নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল নির্যাতন কমিশন? ভোটের আগে তো তাদের নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে হবে।
এদিনের বৈঠকশেষে কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, ফরোয়ার্ড ব্লক, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি বৈঠকে যোগ দিয়েছিল। সব দলই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সে বিষয়ে সকলকে আশ্বস্ত করেছেন।











