দলের বিপর্যয়ে অবশেষে সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে সবুজ দুর্গ। পরিষদীয় দলের রাশ এবার ‘বহিষ্কৃত’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব্য তৃণমূলের হাতে। এই পরিস্থিতিতেই মহুয়া বোঝালেন তিনি এই অসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন। ঋতব্রতর ‘নতুন তৃণমূল’কে বিজেমূল বলে তোপ দাগলেন তিনি।
সমস্ত রকম রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির কাঠ পুতুল বলে বর্ণনা করেছেন সাংসদ। একই সঙ্গে তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ২৭ থেকে ৩০ লক্ষ বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
সংসদের কথায়, “বিজেপি পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ ভোট তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ। ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩০ লক্ষ। যে ৮০ জন জয়ী প্রার্থী লড়াই করেছিলেন তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র নেতৃত্বে তাঁর মুখকে সামনে রেখে লড়েছেন। তাঁরা কিন্তু বিজেমূল কংগ্রেসে লড়াই করেনি। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র নেতৃত্বে লড়াই করে মানুষের আশীর্বাদে জয়ী হয়েছে।”
বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশ্যে মহুয়া বলেন, “আপনারা দল থেকে পদত্যাগ করে বিজেমূল প্রতীকে দাঁড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। এমন কোনও হনু নেই যে বলবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখে ভোট হয়নি। ১৫ বছর ক্ষমতা থাকার পর অনেকের চর্বি জমে গেছে। অনেকের এখন মনে হচ্ছে বিরোধিতা এখন আর ভালো লাগছে না। কে বিরোধী থাকবে? কে পুলিশের সঙ্গে লড়াই করবে? পুলিশ তাদের কথা শুনবে না, বিডিও তাদের কথা শুনবে না, ওসি তাদের কথা শুনবে না। এইসব ঝামেলায় আর তারা যাবে না। বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে নিলে নিজেদের পুলিশ থাকবে, তাদের নিরাপত্তা থাকবে। আরাম করে যাব এদিকেও খেলব ওদিকেও খেলব।”
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে মহুয়া বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শূন্য থেকে শুরু করেছিল। আমরা যখন এই পার্টিতে যোগদান করি আমরা কোনদিন ভাবতে পারিনি যে আমরা সরকারে আসব। যখন প্রথম আমি করিমপুরে উপনির্বাচনে লড়াই করতে যাই তখন আমাকে অনেকেই বলেছিল বাঘ মারতে পাঠাচ্ছি তোমাকে। আমি গিয়ে করিমপুরে লড়াই করেছিলাম। পার্লামেন্টে আমাকে যখন বহিষ্কৃত করেছিল সবাই আমাকে বলেছিল এবার কৃষ্ণনগরে তুমি হারবে। কিন্তু আমি জিতে এসেছিলাম। যদি লড়াই করার মানসিকতা থাকে বিজেপির বিরুদ্ধে যদি লড়াই করতে হয় তবে ভয়ের কোন জায়গা নেই।”
কর্মীদের আশ্বস্ত করে মহুয়া (Mahua Moitra) বলেন, “একদম উদ্বিগ্ন হবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, সঙ্গে আমরা রয়েছি, আমরা বিজেপির বিরোধী শক্তি এবং আমরাই বিজেপির বিরোধী শক্তি হিসেবেই থাকবো। তৃণমূল ছেড়ে যে যেতে চায় যাক, এটা গণতন্ত্র দরজা খোলা আছে। আমরা অতীতে অনেক নির্বাচনে জিতেছি এবং আগামী দিনেও আমরা ঠিক জায়গায় পৌঁছব। আপনারা ঠিক থাকুন সঙ্গে থাকুন। যারা যাওয়ার তাঁরা যাক। দলের শুদ্ধিকরণ হোক। সেই সঙ্গে একটা জিনিস পরিষ্কার হোক। কে বিজেপি বিরোধী, আর কে বিজেমূল।”











