বিধানসভায় পেশ হলো ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সংরক্ষণের জোড়া সংশোধনী বিল। বিল দু’টির নাম– ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান SC অ্যান্ড ST) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। সোমবার বিধানসভায় বিল পেশ করেন রাজ্যের অনগ্রসরশ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Naushad Siddiqui)।
এই বিলের তীব্র বিরোধীতা করেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “একটা ওবিসি বিল নিয়ে এসেছে। আমি ভোটাভুটি চেয়েছি। অদ্ভুতভাবে তৃণমূলের একটা অংশ বিলকে সমর্থন করার জন্য ওয়াক আউট করেছে। এই বিলটির কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখা নেই। রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিলের ফলে অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে আরও ভেদাভেদ তৈরি হবে।”
হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য প্রসঙ্গে নওশাদ বলেন, “হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যকে আমি সমর্থন করি না। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিল হচ্ছে। তিনি কেন মুসলিমদের ঢোকাচ্ছেন। তাঁর দল কি শুধু মুসলিমদের দল। আমরা ইউসিসি বিলের বিরোধিতা করছি।”
ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে নওশাদ (Naushad Siddiqui) বলেন, “মণ্ডল কমিশন ওবিসিদের জন্য যেখানে ২৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুপারিশ করেছিল এবং রাজ্যের সংখ্যালঘু জনসংখ্যার অনুপাতে যা আরও বাড়ানো দরকার ছিল, সেখানে উলটপুরাণ দেখছে বাংলা। ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি তালিকাভুক্ত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের মূলস্রোতে আনার জন্য কোটা ১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করার পরিবর্তে, রাজ্য সরকার তা ১০ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ৭ শতাংশে দাঁড় করিয়েছে। এর ফলে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ওবিসি সম্প্রদায়ের এক বিশাল অংশ চরমভাবে বঞ্চিত হবে।”
বিধানসভায় পেশ হওয়া নয়া বিলে রয়েছে, বর্তমানে ওবিসি ক্যাটেগরি ‘এ’-এর আওতায় থাকা ৬৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে প্রাক্তন শাসকদলের ক্যাটেগরি ‘বি’-তে অন্তর্ভুক্ত ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা সম্বলিত শিডিউল-২ সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। শিডিউল-৩-ও আইনের অংশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ চালু করে বামফ্রন্ট সরকার। ‘এ’ ও ‘বি’ দুইটি ক্যাটাগরিতে চালু হয়। অনগ্রসরতা ও পিছিয়ে পড়ার নিরিখে দুইটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে এই আইন সংশোধন করেন। তখন ক্যাটেগরি ‘এ’-র মধ্যে ৬৫টি এবং ক্যাটেগরি ‘বি’-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা জোড়া হয়। তফশিলি জাতি থেকে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদেরও ক্যাটেগরি ‘বি’-তে রাখা হয়।
সোমার বিলটি প্রথমে ধ্বনিভোটের মাধ্যমে পাশ করানোর কথা হলেও। পরে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর অনুরোধে ভোটাভুটি বা ডিভিশনে সম্মতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। এই ভোটাভুটিতে কালীঘাট তৃণমূল অংশ নিলেও অধিবেশন চলাকালীন ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত তৃণমূল। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৮৬টি, বিপক্ষে ১৭টি। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ছ’জন।
ট্রেনে ওঠা-নামা নিয়ে বচসা, যাত্রীকে মারধর, দঃ ২৪ পরগনার বেদবেরিয়ায় তুমুল উত্তেজনা









