হুগলির শ্রীরামপুরে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতা পাঠের প্রস্তুতি শুরু। আগামী ২৮ অক্টোবর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে সাধু, সন্ন্যাসী, গৃহী এবং সনাতন ধর্মের অনুরাগীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজ। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য শীঘ্রই একটি কমিটি তৈরি করা হবে। (Serampore Hooghly)
ব্রিগেডে ১১ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ
শ্রীরামপুরে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ১১ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের প্রস্তুতিও চলছে। কার্তিক মহারাজ জানান, আগামী ১৯ ডিসেম্বর এই অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সনাতন ধর্মের সব অনুগামীকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। (Serampore Hooghly) ব্রিগেডে আগে রাজনৈতিক সমাবেশই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেখানে গীতা পাঠের আয়োজনও হয়েছে। গত বছরও ব্রিগেডে গীতা পাঠের অনুষ্ঠান হয়েছিল। এবারও বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট গীতা পাঠের মাধ্যমে মানুষকে বড় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। তাঁর কথায়, অনুষ্ঠানে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয়, সকলকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে। (Serampore Hooghly)
নিরামিষ-আমিষ নিয়ে কার্তিক মহারাজ
দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেন, দুর্গাপুজো শক্তির আরাধনা। তাই পুজোর কয়েকটি দিন সাত্ত্বিক জীবনযাপনের দিকে জোর দেওয়া যেতে পারে। তিনি নিজে এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসীরা নিরামিষ খাবার খান। তবে সাধারণ ভক্তদের উপর কোনও খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভক্তদের সপ্তাহে এক-দুদিন নিরামিষ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাকি সময় তাঁদের নিজস্ব রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী খাবার খাওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সমাজে বিভাজন তৈরি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। (Serampore Hooghly)
বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও সরব
বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন কার্তিক মহারাজ। সনাতন ধর্মের প্রচারক চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, চিন্ময় প্রভু জেলে থাকায় মায়ের সঙ্গে শেষবার দেখা করতে পারেননি। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কার্তিক মহারাজের বক্তব্য, বাংলাদেশে হিন্দুদের নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনার মধ্যে মূল বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। নিরামিষ-আমিষ নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়গুলিতে নজর দেওয়া উচিত। (Serampore Hooghly)
এদিন আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেন, যে এলাকার মানুষ ভোট দিচ্ছেন, তাঁরাই ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মত জানাবেন। তাঁদের এলাকায় ভোট হলে তখন তাঁরা নিজেদের অবস্থান জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।












2 thoughts on “শ্রীরামপুরে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতা পাঠ, কার্তিক মহারাজের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি শুরু”
Comments are closed.