দুর্গাপুজোর আগে পুজোর সামগ্রী হিন্দুদের দোকান থেকে কেনা এবং হিন্দুদের দোকান থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার বার্তা দিয়ে শিলিগুড়িতে পোস্টার লাগাল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। এই পোস্টার ঘিরেই শহরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পোস্টারে দেশের অর্থ বাঁচানো এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার কথাও বলা হয়েছে। ঘটনায় আপত্তি জানিয়ে পোস্টার লাগানোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সিপিএম নেতা তথা শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের প্রচার শহরের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা। অন্যদিকে, পোস্টার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। (Siliguri Posters)
সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ অশোকের
শহরের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তরুণ তীর্থ মাঠের সামনে এই পোস্টারগুলি লাগানো হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে এমন পোস্টার সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “শিলিগুড়ির নিজস্ব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-নেপালি, বিহারি-মারোয়াড়ি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করছেন। (Siliguri Posters) তাঁদের মধ্যে খাবার, পোশাক বা কেনাকাটা নিয়ে কোনও বিরোধ তৈরি হয়নি। কে কী খাবেন, কী পরবেন বা কোন দোকান থেকে জিনিস কিনবেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দেশের সংবিধানও সেই অধিকার দিয়েছে। অশোকের বক্তব্য, এই ধরনের পোস্টার অশান্তি তৈরি করতে পারে। তাই যাঁরা পোস্টার লাগিয়েছেন, তাঁদেরই তা খুলে নেওয়া উচিত। তা না হলে পুলিশকে পদক্ষেপ করতে হবে। শিলিগুড়ির শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনের।” (Siliguri Posters)
রাজ্য সরকারকেও নিশানা
এই ঘটনায় রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকেও নিশানা করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্য থেকে উৎসাহ পেয়েই কেউ কেউ এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছেন। রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকারেরও শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শিলিগুড়ির মন্ত্রী ও বিধায়কেরও বিষয়টি দেখা উচিত বলে দাবি করেন তিনি। (Siliguri Posters)
কী বলছেন শঙ্কর ঘোষ ও গৌতম দেব?
পোস্টার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কোন বক্তব্যে কেউ উৎসাহ পেয়েছেন, তা তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়। পোস্টারগুলি সম্পর্কে তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না। কারা পোস্টার লাগিয়েছেন এবং কেন লাগিয়েছেন, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, গৌতম দেব এই ধরনের প্রচারকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, বাংলা দীর্ঘদিন ধরে সর্বধর্ম সমন্বয়ের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীরামকৃষ্ণ এবং রবীন্দ্রনাথের বাংলায় এই ধরনের বক্তব্য কাম্য নয়। বিষয়টি বাংলার মানুষ তাঁদের বিবেচনা দিয়ে বিচার করবেন। গৌতম দেব আরও বলেন, পোস্টারগুলি সংবিধানবিরোধী হলে পুলিশের যথাযথ পদক্ষেপ করা উচিত। এ নিয়ে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। (Siliguri Posters)












1 thought on ““হিন্দুর দোকান থেকে বিরিয়ানি খান”, শিলিগুড়িতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পোস্টার ঘিরে বিতর্ক”
Comments are closed.