ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে বচসা তারপরই হাতাহাতি। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর বাজারের একটি বহুতলে। মদ্যপ অবস্থায় আবাসনে ঢুকে এক ব্যক্তিকে মারধর এবং পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে বহিরাগত এক যুবকের বিরুদ্ধে। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর মেয়েও। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন নির্মল শিকদার নামের ওই আবাসিক। এই ঘটনায় সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। (Sonarpur Incident)
ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে বচসা, তারপরই হামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারপুর বাজারের ওই বহুতল আবাসনে প্রায় ১৫টি পরিবার থাকে। বিশ্বকর্মা পুজো আসছে সেই উপলক্ষ্যে ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে আবাসনেরই এক বাসিন্দার সঙ্গে অন্যদের বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপরই মদ্যপ অবস্থায় এক ব্যক্তি পাথর নিয়ে হামলা চালান নির্মল শিকদারের ওপর। ঘটনায় আহত হন তিনি। বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর মেয়ে স্বপ্না গায়েনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
আবাসিকদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি মাঝেমধ্যেই বহিরাগতদের আবাসনে নিয়ে আসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন আবাসনের বাসিন্দারা। এইসবের প্রতিবাদ করতে গেলেই ঝামেলা এবং মারধরের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে দাবি তাঁদের। আবাসিকদের বক্তব্য, এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের অশান্তি হয়েছে। সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল বলে দাবি বাসিন্দাদের।
একই ছাদের তলায় সব পরিষেবা, সোনারপুরে লোক কল্যাণ মেলার সূচনা করলেন বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়
আতঙ্কে আবাসনের বাসিন্দারা, স্থায়ী সমাধানের দাবি
এই ঘটনার পর থেকেই আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে মহিলা এবং বয়স্ক বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। আবাসনের প্রৌঢ় বাসিন্দা জগাইলাল ঘোষ জানান, তাঁরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। বারবার এমন ঘটনা ঘটলে আবাসনের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে বলে তাঁর দাবি। (Sonarpur Incident)
অন্যদিকে, আবাসনের আরেক বাসিন্দা তথা পেশায় শিক্ষিকা সোনালী চক্রবর্তীর অভিযোগ, তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করেও ঢিল ছোড়া হয়েছে। ফলে তিনিও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কতটা সত্যতা রয়েছে এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










