টানাপোড়েন চলছে। শ্রীজাতর (Srijato Bandyopadhyay) গ্রেফতারির খবর প্রথমে আসলেও পরে কমিশন জানায় খবরটি ভুয়ো। সংবাদমাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করে সেই দাবি করা হয়েছিল। এ বার শ্রীজাত নিজেই জানালেন তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
এর পর প্রশ্ন উঠছে কে সঠিক? যদি শ্রীজাত হয়, তা হলে কমিশন কীসের ভিত্তিতে ভুয়ো বলে দাবি করল? আর যদি শ্রীজাত ভুল হন, তা হলে কেন তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি বলে পোস্ট করলেন? আপাতত কবির গ্রেফতারি নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত।
ভোটের ঠিক আগের দিন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার খবর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যাচ্ছিল, একটি পুরনো মামলার ভিত্তিতেই অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট হয়েছে বলে জানা গেলেও, ভোটের মুখে ঘটনাটি নতুন করে তাৎপর্য পেয়েছে।
সূত্রের খবর ছিল, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশও তৎপর হয়েছে। কমিশনের যুক্তি, নির্বাচনের সংবেদনশীল সময়ে কোনও বক্তব্য বা উপস্থিতি থেকে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সেই কারণেই পুরনো মামলায় এই পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কিন্তু গোটা বিষয়টিই গুজব বলে জানিয়েছে কমিশন।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বলেন, ‘এটা একটা গুজব। কেউ ছড়িয়েছে। কমিশনের তরফে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা যায় না। আমরা কোর্টকে এরকম কিছু জানাইনি।’
নির্বাচন কমিশনের এই বিবৃতির পরই কবি শ্রীজাত সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আমার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটা ভুয়ো নয়, একশো ভাগ সত্যি। আপাতত এটুকুই। বাকি কথা পরে হবে”। এখন ঘটনায় সত্যিটা কী? সেটা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীজাতর বিরুদ্ধে কোনও নতুন অভিযোগ দায়ের হয়নি বা কমিশন তাঁকে ‘টার্গেট’ করে কোনও নতুন পরোয়ানা জারি করেনি। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। সেই সময় শ্রীজাতর (Srijato Bandyopadhyay) লেখা একটি কবিতাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর আদালতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলাটি পরে হাইকোর্টে গড়ায়। সেই পুরনো মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং আগামী জুন মাসে তার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।











