এক সময়ে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ত্রাস ছিল তৃণমূলের যুব নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে বনি (Tmc Leader Boni)। এবার সেই বনিকেই কোমরে দড়ি পরিয়ে হাফ প্যান্টে এলাকায় ঘোরাল পুলিশ। এদিন যুবনেতাকে দেখে উঠল ‘চোর’ ‘চোর’ শ্লোগান।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল সেখানকার দাপুটে তৃণমূল নেতা অভিজিৎ রায়। শুধু অর্জুন সিংকেই নয়, সেই সময় বহু সাংবাদিকদেরও এই বনির হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। আজ সংবাদমাধ্যমের তরফে বনিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? আজ কেন তৃণমূল নেতারা তাঁর সঙ্গে নেই?’ বনি বলে, “যারা চুরি করেছে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী চুরি করেছে তাই পালিয়েছে। আমি চুরি করিনি, তাই পালাইনি।”
তৃণমূল জামানায় বিজপুর এলাকা জুড়ে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করেছিল কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী ছায়াসঙ্গী অভিজিৎ রায়। আর এই বনিকেই এদিন হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে কাঁচরাপাড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘোরায় বীজপুর থানার পুলিশ। সোমবার পুলিশ বনিকে নিয়ে যায় বাবু কোয়ার্টার ও নবীন পল্লি এলাকায়, যাকে বনির ডেরা বলেই দাবি স্থানীয়দের।
প্রসঙ্গত, এই বনির বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি ও দাদাগিরি করার অভিযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ কোয়াটারের ভিতরে পুরসভার বালতি মজুত করে রাখা হত এবং সেগুলি বিক্রিও করা হতো। পাশাপাশি, ওই কোয়াটারে কে থাকবে, কে ঘর পাবে— সবকিছুই বনির নির্দেশে চলত। এমনকি, সেখানে অসামাজিক কাজকর্মও চলত বলেও অভিযোগ ওঠে।
ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই সে নিখোঁজ ছিল। দিন তিনেক আগে তাকে মন্দারমণি থেকে গ্রেফতার করে বীজপুর থানার পুলিশ। পুরোনো একটি আগ্নেয়াস্ত্র মামলার সূত্র ধরেই বনিকে পাকড়াও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রবিবার তাকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।









