ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূলের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই বিতর্কের দাড়ি এখনও পড়েনি। এবার সমাজমাধ্যমে বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রী তাপস রায়ের (Tapas Roy) এক মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। যেটা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। এক-দুই নয়, প্রায় ৫০ জন বিধায়ক নাকি বেসুরো। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পেজে এমনই মন্তব্য লিখলেন বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। যা ঘিরে তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক।
তিনি লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। খেলা হবে।”
তবে কি বাংলাতেও এবার মহারাষ্ট্র মডেল? ২০২২ সালে যেভাবে শিবসেনা ও NCP ভেঙে গিয়েছিল, একই ভাবে আড়াআড়িভাবে ভাঙন ধরবে তৃণমূলে? বিধানসভায় সই বিতর্কে নাম জড়াতেই সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর সেই সম্ভাবনাই জোরাল হচ্ছে।
সোমবার বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা কেউ কিন্তু নির্দল হয়ে জিতে আসিনি। একজন ৭১ বছর বয়সী মহিলাকে ছুটিয়ে, তাঁর পোস্টার দিয়ে, আমরা বিধায়ক হয়ে এসেছি। কোনও বিবেক নেই?”
এর ফলে এখন থেকে বিধানসভায় আনঅ্যাটাচড বিধায়ক হিসেবেই ধরা হবে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে৷ বিধায়ক থাকলেও এখন থেকে আর বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে গণ্য করা হবে না তাঁদের৷ গত পরশু কালীঘাটে তৃণমূলের ডাকা বৈঠকে ৬০ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন৷ ফলে বৈঠক ডেকেও বাতিল করতে হয় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ যদিও পরে দলের এই ধসের কারণ ব্যাখ্যা করতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কিন্তু তাতেও রক্ষা হল না বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা। ফলে ২০২৬-এর বিধানসভায় হেরে যাওয়ার পর তৃণমূল নেতৃত্বদের প্রতি দলেরই বিধায়করা যে কতটা আনুগত্য পোষণ করছেন, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন৷










2 thoughts on “ভাঙছে তৃণমূল? ৫০ জন বিধায়ক নিয়ে স্পিকারের কাছে ঋতব্রত, দাবি তাপস রায়ের”