শান্তিপুর লোকালের কামরায় হঠাৎই দেখতে পাওয়া গেল মা দুর্গাকে। ভোরের ব্যস্ত ট্রেনে যাত্রীদের পাশেই বসে রয়েছেন উমা। তবে কোনও মণ্ডপে নয়, প্রতিমা নিয়ে এই সফর নদিয়ার শান্তিপুর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায়।(Durga’s Train Journey) সাধারণ লোকাল ট্রেনেই এবার ‘বাপের বাড়ি’ চললেন মা দুর্গা। শান্তিপুর স্টেশন থেকে শিয়ালদহগামী লোকাল ট্রেনে প্রতিমাটিকে নিয়ে রওনা দেন শিল্পী সৌম্যদীপ। তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছে এই দুর্গাপ্রতিমা। প্রতিমার গন্তব্য নামখানার একটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পুজো। নদী, খাঁড়ি এবং জঙ্গলঘেরা সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের বাড়িতেই এবার হবে দেবীর বোধন।(Durga’s Train Journey)
লোকাল ট্রেনে দেবী দর্শন
সাধারণত দুর্গাপ্রতিমাকে গাড়ি বা অন্য কোনও বিশেষ পরিবহণে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবির বদল। শান্তিপুর লোকালের কামরায় প্রতিমা দেখে অবাক হয়ে যান নিত্যযাত্রীরা। অনেকেই হাতজোড় করে প্রণাম করেন। ব্যস্ত ট্রেনের মধ্যেই তৈরি হয় ভক্তির পরিবেশ। শান্তিপুরের মাটির গন্ধ এবার পৌঁছে যাচ্ছে সুন্দরবনের সুন্দরী ও গরানের দেশে। সেখানেও বাজবে আগমনী সুর। লোকাল ট্রেনের সাধারণ যাত্রাপথেই যেন দেবীর আগমন হয়ে উঠল অন্যরকম। (Durga’s Train Journey)
ঐতিহ্যবাহী সাজে উমা
প্রতিমার রূপেও রয়েছে বাংলার চেনা ঐতিহ্য। একচালার কাঠামোর উপর ধবধবে সাদা ডাকের সাজে সেজেছেন মা দুর্গা। চালচিত্রের খাঁজে রয়েছে রুপোলি সাজের ঝলক। বঙ্গীয় মৃৎশিল্পের সেই পরিচিত সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী সৌম্যদীপ।
দেবীর এই সাজানো রূপকে শাস্ত্রে ‘শ্রীময়ী’ বলা হয়। আর এবার সেই মৃন্ময়ী রূপই লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের চোখে হয়ে উঠল যেন জীবন্ত দেবীদর্শন। শান্তিপুর থেকে নামখানা—সাধারণ ট্রেনে মায়ের এই সফর তাই ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। (Durga’s Train Journey)












3 thoughts on “শান্তিপুর লোকালে চেপে ‘বাপের বাড়ি’-তে উমা, গন্তব্য নামখানা”
Comments are closed.