অপরিশোধিত তেলের সংকট এবার বড় প্রভাব ফেলতে পারে ইন্টারনেটের (Internet crisis) ওপর। ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এবার পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনেও। জ্বালানি সংকট কেবল রান্নাঘরের সিলিন্ডারেই সীমাবদ্ধ নেই; টেলিকম অপারেটরদের দাবি অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যাহত হতে পারে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট পরিষেবা, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমার আপনার দৈনন্দিন জীবনে।
আধুনিক সভ্যতা এখন যতটা না খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল, তার চেয়েও বেশি নির্ভরশীল ডিজিটাল তথ্যের অবাধ প্রবাহের ওপর। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, যে ভৌগলিক এলাকাটি বর্তমান যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু, সেই লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর তলদেশ দিয়েই গিয়েছে ফাইবার অপটিক কেবল নেটওয়ার্ক। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে জ্বালানি সংকটের সমান্তরালে এক বিশাল ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ বা ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ইন্টারনেট (Internet crisis) পরিষেবা এবং টেলিকম নেটওয়ার্ক একে অপরের পরিপূরক। আমরা মোবাইলে যে আন্তর্জাতিক কল করি বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকি, তার মূল চালিকাশক্তি হলো এই কেবলগুলি। যুদ্ধের ডামাডোলে যদি একটি প্রধান কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নেটওয়ার্ক ট্রাফিককে অন্য বিকল্প পথে পাঠাতে হবে। এর ফলে নেটওয়ার্কে প্রবল চাপ তৈরি হবে, যাকে প্রযুক্তিবিদয় ‘ল্যাটেন্সি’ বা বাফারিং সমস্যা বলা হয়। এর প্রভাব এতটাই ভয়াবহ হতে পারে যে, বড় টেলিকম টাওয়ারগুলো তাদের সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে হিমশিম খাবে। আন্তর্জাতিক রোমিং থেকে শুরু করে সাধারণ ভিডিয়ো কলিং, সবই তখন থমকে যাবে। মূলত, ডিজিটাল পরিকাঠামোটি এতটাই সংবেদনশীল যে এর একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া মানেই পুরো বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্কের গতি কয়েক গুণ কমে যাওয়া।
অনেকেই মনে করেন ইন্টারনেট হয়তো সম্পূর্ণভাবে স্যাটেলাইট বা মহাকাশ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে চলে, কিন্তু বাস্তবতা হল বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ট্রাফিকের ৯৯ শতাংশই পরিবাহিত হয় সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিছিয়ে রাখা কয়েক হাজার মাইল দীর্ঘ ফাইবার অপটিক কেবল বা ‘সাবমেরিন কেবল’-এর মাধ্যমে। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের লোহিত সাগর হলো এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে সংযোগকারী প্রধান ডিজিটাল করিডোর। ইউরোপ থেকে ভারত, চিন বা সিঙ্গাপুরে আসা অধিকাংশ ইন্টারনেট কেবল এই সরু জলপথের নিচ দিয়েই প্রবাহিত হয়। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যখন যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন চলাচল করে, তখন ভুলবশত বা যুদ্ধের কৌশল হিসেবে এই কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা মাত্র কয়েকটি প্রধান কেবল যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে মুহূর্তের মধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান থমকে যাবে।












1 thought on “Internet crisis: যুদ্ধের প্রভাব ইন্টারনেটেও, বন্ধ হয়ে যাবে জিও-এয়ারটেলের কানেকশন?”