[ছবি:এক্স]
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষযাত্রা (Ali Khamenei Funeral) ঘিরে শনিবার তেহরানে দেখা গেল অভূতপূর্ব জনসমাগম। রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শুরু হয়েছে ছয় দিনের (Ali Khamenei Funeral) রাষ্ট্রীয় শোক ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান। কয়েক মাস আগে আমেরিকা-ইজরায়েলি হামলার প্রথম দিনেই নিহত হওয়া (Ali Khamenei Funeral) খামেনেইর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো লাখো মানুষ রাজধানীতে ভিড় জমিয়েছেন। শোকের আবহের মধ্যেই ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেইর ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
তেহরানে জনসমুদ্র, কাচের কফিনে খামেনেইর দেহ
শনিবার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কাচের আবরণে রাখা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। (Ali Khamenei Funeral) ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনের উপরে রাখা হয়েছিল তাঁর পরিচিত কালো পাগড়ি। খামেনেইর কফিনের পাশাপাশি তাঁর নিহত পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনও রাখা হয়েছিল। বিশাল কালো মঞ্চটি ইসলাম ধর্মের পবিত্র কাবা শরিফের আদলে নির্মিত হয়।
Sea of grief in Tehran as farewell ceremony for the martyred Leader of the Islamic Revolution Imam Sayyed Ali Khamenei has commenced at Tehran’s Grand Imam Khomeini Mosalla, drawing vast crowds of mourners in a historic manifestation of national unity.
— Al-Manar English (@manarenglish) July 4, 2026
Beginning in the early… pic.twitter.com/fH8pxSkASi
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচার এবং সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাজার হাজার শোকাহত মানুষ কাঁদতে কাঁদতে শেষ শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই হাতে ইরানের পতাকা ও খামেনেইর ছবি নিয়ে উপস্থিত হন।
‘প্রতিশোধ চাই’ স্লোগানে মুখর শোকমিছিল
খামেনেইর মরদেহ দেখার পর বহু মানুষকে “আমাদের কথা একটাই, প্রতিশোধ, প্রতিশোধ” স্লোগান দিতে শোনা যায়। শিয়া ধর্মীয় রীতি অনুসারে বহু শোকাহতকে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করতেও দেখা যায়। তেহরানের বিভিন্ন রাস্তা ও চত্বরে খামেনেইর বিশাল প্রতিকৃতি সম্বলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে।
🚨The funeral events of Ali Khamenei have entered their second day:
— Gameover 🇦🇺🇮🇱 (@MarkoS2075) July 4, 2026
A large Iranian crowd gathered in Tehran in front of the compound where Khamenei’s body is being displayed and chanted in unison:
“Death to America
Death to America”
The crowd held up signs reading:
“Kill… pic.twitter.com/BW1fusu1ro
(Ali Khamenei Funeral) ইরানি প্রশাসনের দাবি, আগামী তিন দিনে শুধুমাত্র তেহরানেই ১ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ২ কোটি মানুষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক যান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে জল্পনা
খামেনেই নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
খামেনেইর শেষযাত্রা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, বাবার অন্ত্যেষ্টিতেও থাকছেন না মোজতবা
আমেরিকাকে বার্তা ইরানের সংসদ স্পিকারের
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইজরায়েল-আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের পর আঞ্চলিক বাস্তবতা বদলে গিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে সেই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। উজবেকিস্তানের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নতুন বাণিজ্য ও পরিবহণ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে। একইসঙ্গে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?
১৯৮৯ সাল থেকে টানা সাড়ে তিন দশক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলি খামেনেইর মৃত্যু শুধু ইরানের রাজনীতিতেই নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থাতেও ইরানের অবস্থান এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির কৌশলগত পরিবর্তন ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
কাঁদলেই শৌচালয়ে বন্দি করে রাখা হতো! বেঙ্গালুরুর ডে-কেয়ার কান্ডে গ্রেফতার আয়া











