পশ্চিম এশিয়ায় ইরান এবং আমেরিকার সংঘাতের মধ্যেই ফের হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। শনিবার এই ঘটনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা UK Maritime Trade Operations (UKMTO)। ঘটনায় আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
UKMTO-র প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটির ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন যে জাহাজটি একটি “অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল”-এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় জাহাজের ব্রিজে ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেলেও কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। (Iran Us War)
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা দীর্ঘ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আপাতত আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে এরই মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, আমেরিকার হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিনবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনেরও অভিযোগ, ইরানই সাম্প্রতিক সামুদ্রিক হামলাগুলির জন্য দায়ী এবং তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার জেরে আমেরিকা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সংক্রান্ত সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। (Iran Us War)
আগামী বছরেই ভারত সফরে ট্রাম্প? বড় ইঙ্গিত মার্কো রুবিওর, শেষ পর্যায়ে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনও হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পর বিভিন্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জাহাজ চলাচল নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর। (Iran Us War)











