নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মৃত ৪৬৯ জন। এখনও নিখোঁজ প্রায় ১,০০০-এর বেশি। ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও নদীর স্রোতের মধ্যেই জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। এর মধ্যেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে বিদেশি দল পাঠানোর জন্য একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রস্তাব এলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছে কাঠমান্ডু। নেপালের বক্তব্য, নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনীই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারও থেকে আপাতত কোনও সাহায্য চাইছে না নেপাল।
Nepal Flood Update: চিন-সহ একাধিক দেশের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল নেপাল
উল্লেখ্য, বুধবার নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বানে আচমকা জলস্তর বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা জল, কাদামাটির নিচে চলে যায়। তারপর থেকেই নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন নেপাল পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী।
দুর্যোগের পর নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে চিন-সহ বেশ কয়েকটি দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার তরফে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব আসে। তবে নেপাল সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব নেপালের নিরাপত্তা সংস্থাগুলিই দেবে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানের জন্য অন্য দেশের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতাও। সেই সময়ও বহু বিদেশি উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছিল। কিন্তু এতগুলি দলকে একসঙ্গে পরিচালনা ও সমন্বয় করতে গিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তাই এবার উদ্ধারকাজ নিজেদের হাতেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল।
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ৬৬৭ পর্যটক
তবে বিদেশি সাহায্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে না নেপাল। উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পরিবর্তে আর্থিক সাহায্য একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানোর জন্য দেশগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজেও আন্তর্জাতিক সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। (Nepal Flood Update)
উদ্ধারকাজে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী
বন্যা ও হড়পা বানের ভয়াবহতায় পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১,৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে আহত। অন্যদিকে, দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশকর্মীও রয়েছেন।উদ্ধার অভিযানে নেপাল পুলিশ মোট ৪,৩৪৮ জন কর্মীকে নামিয়েছে। রাসুয়া থেকে ৬৪৪ জন, নুয়াকোট থেকে ৮৯৮ জন এবং ধাদিং থেকে ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও চলছে নিখোঁজদের সন্ধান।
নিখোঁজদের তালিকায় বহু বিদেশিও
এই ভয়াবহ বন্যার পর বহু বিদেশি নাগরিকেরও খোঁজ মিলছে না। দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় এবং ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক। চিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ১০০ জন চিনা নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এই অবস্থায় বিদেশি নাগরিকদের খোঁজ, উদ্ধারকাজ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদানপ্রদানের জন্য নেপালের বিদেশ মন্ত্রক একটি এমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। এদিকে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদী ও ধ্বংসস্তূপের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও তল্লাশি চলছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলি লাগাতার কাজ করে চলেছে। (Nepal Flood Update)












