নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের নেপথ্যে কী ঘটেছিল, তার প্রাথমিক উত্তর মিলল স্যাটেলাইট ছবিতে। Planet Labs-এর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে হিমবাহ অঞ্চলে বরফ ও পাথরের বড় অংশ ধসে পড়েছিল। সেই ধস থেকেই বিপুল জল ও পাথরবাহী স্রোত নেমে আসে বলে মনে করা হচ্ছে। (Nepal Flash Flood)
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানিয়েছে, ঘটনাটি রাসূওয়াগাধী নেপাল-চিন সীমান্ত পারাপারের জায়গা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ধসের অংশটি কোনও হিমবাহের হ্রদে পড়ে থাকতে পারে। অথবা নদীর গতিপথ আটকে দিয়েছিল। এরপর আচমকা জল বেরিয়ে গিয়ে তৈরি হয় ভয়াবহ স্রোত।
১৫৭ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ বহু
বুধবার ভোতে কোশী নদীর জল আচমকা বেড়ে যায়। সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বন্যার স্রোত একের পর এক গ্রাম, রাস্তা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভাসিয়ে দেয়। নেপালে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ বহু মানুষ। (Nepal Flash Flood)
নিখোঁজদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মোট ৩৮৪ জন পর্যটকের নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে। তাঁদের মধ্যে ভারত, আমেরিকা, ব্রিটেন ও মালয়েশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। তবে বেশিরভাগ নিখোঁজ ভারতীয় বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন।
উদ্ধারকাজে সাহায্যের আশ্বাস মোদীর
পরিস্থিতি নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নেপালকে সব ধরনের মানবিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে দুই দেশের দল সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন মোদি। (Nepal Flash Flood)
গত বছরের অগস্টেও একই এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। তীব্র গরমে তিব্বতের একটি হিমবাহের হ্রদ উপচে পড়েছিল। সেই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নেপাল-চিন সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতু-সহ একাধিক পরিকাঠামো। এবারও সেই সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ও ধসের যোগসূত্রই সামনে আসছে।
আরও পড়ুন :- নেপাল বিপর্যয়ে ত্রাণ পাঠাচ্ছে রাজ্যও, ঘোষণা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের












