রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

সাত তাড়াতাড়ি গুটিয়ে ফেলতে হলো বিদেশী মুদ্রার স্থায়ী আমানত প্রকল্প

RBI NRI Foreign Currency
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী
হিন্দুস্তান নিউজ পয়েন্টে লেখাটা প্রকাশ পেয়েছিল ২০২৬ সালের ৮ অগস্ট। বিষয় ছিল, বিদেশী মুদ্রায় ভারত সরকারের অনুমতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশে ব্যাঙ্কগুলোর নেওয়া স্থায়ী আমানত (RBI NRI Foreign Currency)। উচ্চ সুদে নেওয়া এই স্থায়ী আমানত আসলে দরকার ছিল ভারতীয় টাকার ডলারের সঙ্গে অবমূল্যায়ন রক্ষার জন্য। লেখায় বলা হয়েছিল এই স্থায়ী আমানত ফেরত দেওয়ার সময় তা ভারত সরকারের বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ২০২৬ সালের ৪ জুন ঘোষণা করা এই প্রকল্পে বলা হয়েছিল এটা চলবে ২৬ সালের ৩১ সেপ্টেম্বর অবধি।

কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সব ব্যাঙ্কিং সংস্থাকে অবাক করে ১৪ অগস্ট ঘোষণা করল, এই প্রকল্প ৩১ সেপ্টেম্বরের জায়গায় ৩১ অগস্ট সমাপ্ত হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, ৫ অগস্ট রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন যে, এই প্রকল্প ৩১ সেপ্টেম্বরের আগে বন্ধ করার কোনও চিন্তা তাদের নেই।

আরও পড়ুন: ১০০ কেজি আখ থেকে কতটা চিনি উৎপাদন হয়? শুনলে অবাক হবেন

অবাক হবার ব্যাপার হলো, কী এমন এই ৯ দিনে ঘটল যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে তার সিদ্ধান্ত বদল করতে হলো। এই খামখেয়ালিপনা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্মদক্ষতা নিয়ে খুব ভালো বার্তা নিয়ে এল কি? এই প্রকল্প এক মাস আগে বন্ধ করার ঘোষণার সময় প্রথাগতভাবে বলা হলো, এই প্রকল্পে বিদেশে থাকা ভারতীয়রা এত ভালো আগ্রহ দেখিয়েছে যে আমাদের উদ্দেশ্য ভালোভাবেই সফল হয়েছে।

মনে করা হচ্ছে এই প্রকল্পে যে লক্ষ ছিল, তাকে পেরিয়ে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ান ডলারের মতো জমা আনতে পারা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় অর্থনীতি থেকে ২.৪ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে তখন কেন এত টাকা জমা এল? এর কারণ হচ্ছে আমানতের উপর ৭.৮ অবধি সুদ, যা কি না অন্য কোনও দেশে পাওয়া খুবই কঠিন। অন্যদিকে আগের করা কোনও আমানত ভাঙিয়ে অধিক সুদে জমা করার ব্যাপারে কিছু ব্যাঙ্কের বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে বা কিছু কিছু ব্যাঙ্ক তাদের সাধ্যমত সুদ দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, এমন অনুমতি পাওয়ার পরই বাড়তে থাকে এই জমা। (RBI NRI Foreign Currency)

মহাভারতের একটি মন্তব্য, “অশ্বথমা হত ইতি গজ”, হয়তো শত ব্যবহারেও ক্লিশে হয়ে যায়নি। কারণ সরকার বাহাদুর বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হঠাৎ যে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন, তা হয়তো ওই উক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে। আসলে সুদের বোঝা এবং এত ডলার আসার পরও টাকার দামের সঙ্গে ডলারের দামের সামান্যই পরিবর্তনকে মাথায় রেখেই এই প্রকল্পের হয়তো সমাপ্তি ঘোষণা। না হলে আজকের “কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা” বা সংখ্যা তত্ত্বের যুগে এটা বলা কি মুশকিল ছিল যে, সেপ্টেম্বর অবধি এই প্রকল্প খোলা থাকলে ৮০ বা ৮৫ বিলিয়ান ডলার জমা পড়ত কি না!

তা হলে কি ভারতের বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডার আরও বেশি মজবুত হতো না? কিন্তু তাতে ২০২৯-৩০ সালে যখন এই জমা সুদ সহ ফেরত দিতে হতো, তখন হয়তো অনেক বেশি মুশকিলে পড়ত ভারতীয় অর্থনীতি। আরেকটা বিষয় অবাক করার মতো ছিল যে, যে পরিমাণ ডলারের আগমনের কথা বলেছিল বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলো, সেই পরিমাণ ডলার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হিসাবে দেখা যাচ্ছিল না কেন? এটা কি শুধু পারস্পরিক লেনদেনের খবর পাঠানোর সময়ের তারতম্যের জন্য? (RBI NRI Foreign Currency)

আর এই যে হঠাৎ করে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হলো, তাতে কিছু অনাবাসী ভারতীয় কি হতাশ হলো না? আর যাই হোক, পুরো বিষয়টা কিন্তু ভারতীয় মুদ্রানীতি বা মানিটারি পলিসিকে অধিক প্রশংসার যোগ্য করে তুলল না।


Hindusthan News Point

রাজ্য, দেশ, বিদেশ, খেলা ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য খবর এক প্ল্যাটফর্মে। আমরা তুলে ধরি সত্য, বাস্তব ও মানুষের কথা। Voice of the Nation

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment