রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

সময়ই বলবে উচ্চ সুদে নেওয়া বিদেশী মুদ্রার জমা কতটা লাভের হবে

RBI FCNR Deposit Scheme
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী
ঘোষিত হয়েছিল জুনের ৩ তারিখে। সেই পরিকল্পনা নির্দেশনামা হয়ে এসেছিল ২০২৬ সালের ১৭ জুন। ভারতের ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার কর্ণধার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ঘোষণা করেছিল ৬ থেকে ৭.১% সুদ দিয়ে ভারতে বিদেশী মুদ্রায় মেয়াদি জমা বা ফিক্সড ডিপোজিট রাখা যাবে (RBI FCNR Deposit Scheme)। ২০২৬-এর জুলাই মাসের শেষে বা অগস্ট মাসের প্রথমে এসে ভারতের নামজাদা সংবাদপত্রগুলোর খবরে উঠে এল, এই যোজনায় অনেক অনেক ডলার বিদেশী গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়ে এসেছে HSBC, SBI আর অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের মতো আরও ব্যাঙ্ক। মনে হল যেন, যে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কয়েক দিন আগে ভারত থেকে ৩.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তাঁরা যেন হঠাৎ করে ভারতের অর্থনীতির উপর ভরসা রাখতে আরম্ভ করেছে।

আসলে বিপদের শুরু, টাকার দাম ডলারের দামের চেয়ে কমতে শুরুর করার ফলে। টাকার দামকে সঠিক জায়গায় রাখার জন্য RBI-কে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছিল। অন্যদিকে ভারতে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল, সার, রাসায়ানিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে বেড়ে যাওয়ার ফলে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। এই অবস্থায় ভারতে ডলারের পরিমাণ বাড়াতে RBI নির্দেশ দিয়েছিল বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলোকে অধিক সুদে ডলারের মেয়াদি জমা বাড়াতে। সেই প্রচেষ্টাকে সার্থক করতে HSBC ৬.১ বিলিয়ান ডলার, ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ৪.১২ বিলিয়ান ডলার মেয়াদি জমার বন্দবস্ত করল। (RBI FCNR Deposit Scheme)

ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এটা নতুন নয়। ২০১৩ সালে UPA-র সময়ে বা মনোমহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনও এমন হয়েছিল। তখন বিরোধীপক্ষের নেতারা এক যোগে সমালোচনা করেছিলেন এই সিদ্ধান্তের। আর বলেছিলেন, যে এই উচ্চ সুদে নেওয়া জমা তিন বছর পরে ফেরত দেওয়ার সময়ে সরকার বাহাদুরকে যথেষ্টই মুশকিলে পড়েতে হবে। তখন এও উঠে এসেছিল যে ২৬ বিলিয়ান ডলার যে জমা হয়েছিল এই প্রকল্পে, তা ফেরত দেওয়ার সময় সরকারকে আরও ২০ বিলিয়ান ডলার বেশি দিতে হবে RBI-কে। এখন অবধি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের প্রকল্পে যে ৪৯ বিলিয়ান ডলার ভারতে বিদেশি জমা এসেছে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার সময় কত টাকা সরকার বাহদুর বা RBI-কে গুণতে হবে তা নিয়ে কথা হচ্ছে না কেন?

অন্যদিকে, ২০১৩ সালে যখন এই যোজনা ঘোষিত হয়, সেদিন টাকার মূল্য ছিল ডলারের তুলনায় ৬৭ টাকার মতো। এই প্রকল্প চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এর সুবিধা পাওয়া যায়। টাকার দাম ডলার প্রতি বেড়ে হয়েছিল ৬১ টাকার মতো। এবারও বেশ অনেক দিন হয়ে গেল এই যোজনা ঘোষণার, কিন্তু টাকার মূল্য ডলারের তুলনায় তেমন ভাবে বাড়ল না কেন? ২০২৬ সালের ৪ জুন এক ডলারের মূল্য ছিল ৯৫ টাকার মতো, এখন মানে অগস্ট মাসে তার দাম ৯৫ টাকার মতোই। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে এক একটি ব্যাঙ্ক তাদের যে পরিমাণ এই বিদেশী মেয়াদি জমা বৃদ্ধির কথা বলছে, সেই পরিমাণ ডলারের বৃদ্ধি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের খাতায় দেখা যাচ্ছে না? এর মানে কি পুরনো কিছু জমাগুলোই আবার নতুন করে বেশি সুদে জমা পড়ছে না তো? (RBI FCNR Deposit Scheme)


Hindusthan News Point

রাজ্য, দেশ, বিদেশ, খেলা ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য খবর এক প্ল্যাটফর্মে। আমরা তুলে ধরি সত্য, বাস্তব ও মানুষের কথা। Voice of the Nation

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment