৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছে বিমান। আচমকাই ককপিটের ভিতরে ভয়াবহ পরিস্থিতি। সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত প্রধান পাইলট। মাথা ও হাতের গভীর ক্ষত থেকে ঝরছে প্রচুর রক্ত। প্রায় জ্ঞান হারানোর অবস্থাতেও লড়াই চালিয়ে গেলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar)। শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলে বাইরে আসেন তিনি। তাঁর সেই সিদ্ধান্তেই বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পান বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী।
কতটা ভয়াবহ ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের সেই মুহূর্তটা?
ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে বিমানের এক যাত্রীর বর্ণনায়। যাত্রীদের মধ্যে থাকা ইজরায়েলের দন্ত চিকিৎসক মুসায়েভ শোটা প্রথম কয়েকজনের সঙ্গে ককপিটের দিকে ছুটে যান। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট বিমানটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর আহত স্মিতের কাছে পৌঁছন শোটা। বিমানে তিনিই চিকিৎসার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জানতেন বলে প্রাথমিক চিকিৎসার দায়িত্বও নেন।
রক্তে ভেসেও জ্ঞান ছিল স্মিতের
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম Ynet-কে শোটা জানান, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি। দৌড়ে ককপিটের দিকে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, স্মিতের মাথা ও দুই হাতে ভয়াবহ চোট। প্রচুর রক্ত বেরোচ্ছিল।
শোটার কথায়, ‘‘মাথা ও হাতের ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে প্রায় কেটে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল।’’ তিনি দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসাতেই কিছুটা স্থিতিশীল ছিলেন স্মিত। তবে অবতরণের ঠিক আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয়, এত গুরুতর আহত হওয়ার পরেও জ্ঞান হারাননি স্মিত। বিমানের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থেকেও তিনি শোটার সঙ্গে কথা বলছিলেন। নিজের বয়স ৩৯ বছর এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি। শোটার দাবি, হামলাকারী তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি গালিগালাজও করেছিল।অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোটা জানান, পুরো সময়টাতেই স্মিত প্রার্থনা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও রাখছিলেন। সেই অবস্থায় পাইলটকে বাঁচানো যাবে কি না, তা নিয়ে তিনিও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁচান ১৭৪ জনকে, কে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর?
সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ
শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে সৌদি চিকিৎসকরা আহত পাইলটের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পরে শোটা জানতে পারেন, স্মিত বেঁচে গিয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা বিপদমুক্ত। ঘটনার পর স্মিতের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছে রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস এবং জেড্ডায় ভারতীয় কনস্যুলেট। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে ভারতীয় দূতাবাস।
দূতাবাস জানিয়েছে, স্মিতের পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
একদিকে সহ-পাইলটের হামলা, অন্যদিকে প্রাণ হাতে নিয়ে বিমানকে বিপদের হাত থেকে সরিয়ে আনা—সব মিলিয়ে স্মিত মচ্ছরের সেই মুহূর্তের লড়াই এখন বিমানের যাত্রীদের বেঁচে ফেরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।












1 thought on “সহকর্মীর কোপে প্রায় দুই টুকরো হাত, সেই অবস্থাতেই লড়াই, কেমন ছিল ছবি?”
Comments are closed.