ফের বন্ধ হবে হরমুজ? ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিশ্ববাজারে তেল রফতানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ব্লুমবার্গ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাহাজের গতিবিধির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অনেকটা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ জাহাজই ইরানের উপকূল ঘেঁষা একটি রুট দিয়ে চলাচল করছে। এই পথে যেতে হলে ইরানের অনুমতি লাগে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ওমানের সমর্থিত জলপথে জাহাজের সংখ্যাও খুবই কম। (Strait of Hormuz)
বর্তমানে বড় জাহাজের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি সুপারট্যাঙ্কার এবং একটি ইরানি পতাকাবাহী কনটেনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হতে দেখা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক জাহাজ নিরাপত্তার কারণে তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম (AIS) বন্ধ করে রেখেছে। তাই প্রকৃতপক্ষে প্রতিদিন ঠিক কতগুলি জাহাজ হরমুজ পারাপার করছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক অতীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে একাধিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে পাল্টা সামরিক হামলা চালায়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা আর নাকি কার্যকর নেই। এরপর থেকেই ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বুধবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে দুই দিক মিলিয়ে মাত্র ১৪ টি পণ্যবাহী জাহাজকে চলাচল করতে দেখা গিয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই একদিনে সর্বনিম্ন সংখ্যা। অথচ যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী তিন সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩৪টি পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল। ২৪ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৫৯টি জাহাজ চলাচল করেছিল। সংঘাতের সময় অবশ্য প্রতিদিন ২০টিরও কম জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে। (Strait of Hormuz)
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি; ইরানে ফের আমেরিকার হামলা
এদিকে হরমুজ দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহনকারী ট্যাঙ্কারের চলাচলও এখনও বন্ধ রয়েছে। যদিও দুটি খালি এলএনজি ট্যাঙ্কার ওমান উপসাগরে ঢুকে হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকের প্রবেশমুখের দিকে এগোচ্ছে। এছাড়া ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে কিছু জাহাজকে অস্বাভাবিক গতিতে চলতেও দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন হামলা এড়াতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু হওয়ার কারণেই এমনটি হতে পারে। এই ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ফলে জাহাজের ট্র্যাকিং সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করে না, তাই তাদের অবস্থান নির্ভুলভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়ে। (Strait of Hormuz)
সব মিলিয়ে হরমুজ এখন প্রায় স্তব্ধ। হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ ছাড়া আর কেউ এই প্রণালী পেরোতে পারছে না। এদিকে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘ সময় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সেই আশঙ্কাই এখন দিন গুনছে বিশ্ববাসী।












