‘লাল সন্ত্রাস’-কে দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বেঁধে দিয়েছিলেন সময়সীমা। মাওবাদী (Maoist Leader Death) মুক্ত করতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলেছিল বিভিন্ন অভিযান। সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও এখনও জারি অভিযান। ১৩ দিনের মাথায় ফের মাওবাদীর সঙ্গে লড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলির লড়াইয়ে কেঁপে উঠল ছত্রিশগড়ের কাঙ্কের জেলা।
পুলিশ সূত্রের খবর, নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নিহত হন সংগঠনের প্রতাপপুর এরিয়া কমিটির সদস্য রুপী। দেহের পাশ থেকেই উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র। মাওবাদী এই নেত্রীর মাথায় দাম ছিল পাঁচ লক্ষ টাকা। সোমবার ভোরে কাঙ্কের জেলার ছোটে বেথিয়া থানার জঙ্গলে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন রুপী। বাকিদের খুঁজতে ওই এলাকা কর্ডন করে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
২০২৫ সালের মে মাসে মাওবাদী নেতা কেশব রাও ওরফে বাসব রাজু নিহত হন, যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ মাসে বস্তার বিভাগের ৪৪ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তারপরই কেন্দ্র ছত্তিশগড়কে ‘মাওবাদীমুক্ত’ বলে ঘোষণা করেছে।
হত্যা, হামলা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো একাধিক হিংসাত্মক কার্যকলাপে যুক্ত এই মাওবাদীদের জীবিত অথবা মৃত সন্ধান দিলে চার কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ভারত সরকারের মাওবাদী দমন সেল। গতমাসেই ছত্তিশগড়ের বিজাপুর, দন্তেওয়ারা, সুকমা ও নারায়ণপুরে এই মাওবাদীরা পুলিশ ও আধা সেনার যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। যদিও মাস তিনেক আগে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ নিয়ে আলোচনা চলছিল নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির সঙ্গে।
গত কয়েকমাসে মাও-বিরোধী অভিযানের দিকে যদি নজর রাখা যায়, তবে দেখা যাবে নিরপত্তারক্ষীদের লাগাতার অভিযানে পিছু হটেছে মাওবাদীরা। ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা-সহ দেশের মাও অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে হাজার হাজার মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। যারা অস্ত্র ছাড়েননি নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। তবে শুধু মাওবাদীদের (Maoist Leader Death) মৃত্যু নয়, মাওবাদীদের পালটা জবাবে এখনও পর্যন্ত ৫৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।











