বিহারের (Bihar Labours) ভয়ঙ্কর শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা। এক কথায় যেন মধ্যযুগীয় ক্রীতদাস প্রথা। শ্রমিকদের মারধর, বেতন না দেওয়া, বেত বাদ ছিল না কিছুই। এমনকী, মহিলা শ্রমিকদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সহর্ষ জেলায়। একটি ইটভাটা থেকে ৪৭ জন শ্রমিক উদ্ধারের পর সামনে এল এমনই একের পর এক করুণ কাহিনি। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা সকলেই অসমের ধুবুরির বাসিন্দা। জেলার শ্রম আধিকারিক রবীন্দ্র কুমার শর্মার কথায়, শ্রমিকদের প্রায় ১৪টি পরিবার কাজের সন্ধানে বিহারে গিয়ে ফেঁসে যায়।
ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে প্রায় সাত মাস আগে। পুরুষ, মহিলা ও শিশু-সহ শ্রমিকরা জীবিকার সন্ধানে প্রায় বিহারে গিয়েছিলেন। কাজ ছিল কাহারা ব্লকের ধামসাইনি গ্রামের স্টার মার্ক ইটভাটায়। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদেরকে ইটভাটায় আটকে রাখা হয়েছিল। যেখানে করা হতো অত্যাচার। বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। স্থানীয় ডিএসপি ওম প্রকাশের কথায়, কয়েকদিন আগে এক জন মহিলার গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তদন্ত শুরু। (Bihar Labours) তাদের বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশ ওই ইটভাটায় অভিযান চালায়। ইটভাটার মালিক মহম্মদ ওয়াইস কার্নি ওরফে চুন্না মুখিয়া এবং তার সহযোগী অমিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’জনকেই বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানো হয়েছে, চলছে তদন্ত।
কেমন ছিল দুর্বিসহ সেই দিনগুলি? উদ্ধার হওয়া এক শ্রমিক জানাচ্ছেন, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করানো হতো। টাকা চাইলেই জুটত বেদম মার। রেফাজ আলি নামক ওই শ্রমিক জানাচ্ছেন, স্থানীয় দুষ্কৃতীরা সেখানকার মহিলা ও নাবালিকা শ্রমিকদের তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করত। কোনও কেউ কিছুর প্রতিবাদ করলেই চলত অত্যাচার। যেমন একদিন এক নাবালিকা শ্রমিক সকলের সামনে নাচতে অস্বীকার করলে তার শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দেওয়া হয়। (Bihar Labours)
পুলিশ জানিয়েছেন, সাত জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বর্তমানে সহর্ষার একটি সরকারি শিশু হোমে রাখা রয়েছে। প্রায় সকলেরই শরীরে মারাত্মক ক্ষত রয়েছে।













1 thought on “Bihar Labours: বন্দি করে চলত অত্যাচার, অমানবিক ঘটনা বিহারে”