ভাঙাচোরা রাস্তা, বেহাল নিকাশি। ভোটের মুখেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার বাসিন্দারা। রাস্তা অবরোধ (Bengal Assembly Elections 2026) করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ভোটের আগে রাস্তা সারাই ও নিকাশির কথা বললেও ভোট মিটে গেলে আর কেউ ফিরে তাকায় না। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বৃষ্টির জল জমে থেকে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বারবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিধায়ককে জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি বাসিন্দাদের।
তাই বাধ্য হয়েই বুধবার রাস্তা সারাই ও নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে পথে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘেরখোল হাটখোলা এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রতি নির্বাচনের আগে আশ্বাস মিললেও ভোট মিটে (Bengal Assembly Elections 2026) গেলেই আর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায় না। সংবাদমাধ্যম পৌঁছলে ক্ষোভ উগরে দেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা খোকন সর্দারের কথায়, দ্রুত সমস্যার সমাধান চান তাঁরা। ইরসাদ সরদারের কথায়, “আমরা এই সরকারকেই ভোট দিচ্ছি, আবারও দেব, কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধান হোক।” রুনা লস্কর জানান, “বৃষ্টির সময় জল ঘরে ঢুকে যায়। ভালো রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হোক”। অন্যদিকে আফসরি বেগমের অভিযোগ, “পাঁচ বছর আগে জয়ের পরেও জনপ্রতিনিধি একবারও এলাকায় আসেননি”। ফরিদা বিবি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দ্রুত রাস্তার কাজ না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে”।
বিদায়ী বিধায়ক তথা এবার সোনারপুর উত্তর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসী বেগম বলেন, “দুই এক জায়গায় এইরকম অভিযোগ থাকলে থাকতে পারে৷ লেবারের সমস্যার কারণে কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে৷ নিকাশির পরিকল্পনা রয়েছে”। আর এই নিয়েই তৃণমূল প্রার্থীকে বিঁধতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ধর কটাক্ষ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে এই সমস্যাগুলো রয়েছে। নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে”৷ বামপ্রার্থী মোনালিসা সিনহা বলেন, “গোটা সোনারপুর জুড়েই এই সমস্যা রয়েছে। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। কোনও সমস্যার সমাধানই হয় না। ১৫ বছরের বিধায়ক কী কাজ করেছেন?”










