গত ২৩ এপ্রিল বঙ্গের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এবার ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। ফল ঘোষণা মে মাসের ৪ তারিখ। ততদিন পর্যন্ত স্ট্রংরুমে কড়া পাহাড়ায় ইভিএম। আর এই ইভিএম (EVM) পাহারা ঘিরে একাধিক জেলায় উত্তেজনা। অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে শনিবার ভোররাতে এমনই উত্তেজনার ছবি সামনে আসে। অভিযোগ, স্ট্রংরুমে লাগানো সিসি ক্যামেরা বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খবর ছড়াতেই সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস দলবল নিয়ে ভোরেই পৌঁছে যান জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে। সেখানেই ইভিএম রাখা হয়েছে। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিরাপত্তায় থাকা রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডাও হয়। এমনকি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পুলিশ অফিসারদের হুমকিও দিচ্ছেন। পরে কমিশন ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। (West Bengal Election)
অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরেও স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা কম নয়। মেদিনীপুর কলেজের সামনে অবৈধ জমায়েত নিয়ে শুরু হয় গন্ডগোল। সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি অযথা ভিড় জমাচ্ছে। আবার বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল বুথে ছাপ্পা করতে না পেরে এখন স্ট্রংরুমের সামনে এসে ইভিএম বদলানোর চেষ্টা করছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে এই বিষয়ে কোনও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি।
সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোট মিটতেই এখন ইভিএম নিরাপত্তা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জেলায় স্ট্রংরুম ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উদ্বেগ। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই পরিস্থিতি কীভাবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কড়া এর মাঝেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইভিএম নিরাপদে রাখা। আর সেই কাজ ঘিরেই রাজ্যের একাধিক জেলায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। (West Bengal Election)










