বিদেশে পড়তে গিয়ে আর ফিরল না ছেলে। তাঁর মৃতদেহ ফেরাতেও প্রয়োজন বিপুল অঙ্কের টাকা। মাথায় হাত পরিবারের। আমেরিকার শিকাগোতে আত্মহত্যা অন্ধ্রপ্রদেশের ২৬ বছর বয়সী ইরাগানাবোয়িনা চান্দুর। বিদেশে পড়াশোনার পরও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি না পাওয়ায় মানসিক অবসাদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে পরিবার।
ইরাগানাবোয়িনা চান্দু অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের বাসিন্দা। সম্প্রতি শিকাগোতে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরির খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কোনও কাজ না পাওয়ায় তিনি ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়েন। চান্দুর পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। তাঁর বাবা অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। সীমিত আয়ের সংসারে ছেলের বিদেশে পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে পরিবার ইতিমধ্যেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে চাকরি না পাওয়ায় চান্দুর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। আর এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন চান্দু। (Andhra Guy Tragic Death)
পুলিশ সূত্রে খবর, শিকাগোয় নিজের ঘরেই আত্মঘাতী হন। যদিও এখনও ঘটনার তদন্ত চলছে, তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের বেকারত্ব এবং আর্থিক অনিশ্চয়তাই তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার। তবে শোকের পাশাপাশি তাঁদের এখন বড় চিন্তা চান্দুর দেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কীভাবে? বিদেশ থেকে মরদেহ ভারতে আনতে খরচ প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকারও বেশি), যা তাঁদের পক্ষে বহন করা কার্যত অসম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। তাঁরা একটি ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে চান্দুর দেহ দ্রুত ভারতে এনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়। (Andhra Guy Tragic Death)
শেষ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ওই বিপুল পরিমাণ টাকার অনেকটাই সংগ্রহ করা গিয়েছে এবং চান্দুর মরদেহ শীঘ্রই তাঁর পরিবারের কাছে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।












1 thought on “Andhra Guy Tragic Death: মিলছিল না চাকরি, বাড়ছিল দেনা, আমেরিকায় আত্মঘাতী ভারতীয় যুবক”