বিধানসভা ভোটে হারের পর থেকেই তৃণমূলের বহু নেতা-নেত্রী এবং কর্মীরা একে একে দলের ভেতরের কোন্দলের কথা তুলে ধরতে শুরু করেছেন। যদিও বিষয়টিকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন না শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে চাইলেই কি আর সবকিছু চাপা দেওয়া যায়? এবার এই কলহের ছাপ দেখা গেল কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও।
রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চার বিষয় কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখদের শুভেচ্ছা জানালেও সেখানে দেখা গেল না চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। আর সেই থেকেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। (Kunal Ghosh Post)
সম্প্রতি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ভোটার তালিকা, ভোট মেশিন এবং গণনা লুঠ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট বক্তব্য আছে। তবে যেহেতু নতুন সরকার, নতুন মুখ্যমন্ত্রী, তাই শুভেচ্ছা থাকল।”
এর পাশাপাশি তিনি নতুন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের ডেপুটি লিডার অসীমা পাত্র এবং মুখ্যসচেতক ফিরহাদ হাকিম-কেও অভিনন্দন জানিয়েছেন। অসীমা পাত্রকে নিয়ে কুণাল লেখেন, “নিজের পারফরমেন্সে নিজের জোরে নিজের গুরুত্বে এই পদ পেয়েছেন। উনি লড়াকু, ঝাঁঝালো নেত্রী।”
কিন্তু এতসব শুভেচ্ছাবার্তার মধ্যেও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতা তৃণমূলের সংগঠন নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের আবহে এই ‘নাম না থাকা’-কে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। (Kunal Ghosh Post)
Lakshmir Bhandar: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ? প্রথম বৈঠকের পরেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
সম্প্রতি উত্তর কলকাতার তৃণমূলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সেই ঘটনায় একাধিক নেতা-নেত্রীর মধ্যে অসন্তোষের ছবি সামনে এসেছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এই কলহের মধ্যে উঠে এসেছিল নয়নার স্বামী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। বারবার শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে দলের ভেতরকার কোন্দল বন্ধ করার নির্দেশ এলেও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সহকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির ঘটনাকে একেবারেই ভালো চোখে দেখেননি মমতা।
এই আবহে কুণাল ঘোষের এই পোস্টকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বাদ পড়া নিছক কাকতালীয় বলা যায় না। এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরেই এখন প্রশ্ন উঠছে, এটা কি শুধুই ‘ভুলে যাওয়া’, নাকি দলের ভিতরে চলা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আরও এক ইঙ্গিত?










1 thought on “Kunal Ghosh Post: নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই নেই! কুণাল ঘোষের পোস্ট ঘিরে ফের তৃণমূলের অন্দরকলহ”