রাজ্যে পালা বদলের পরই পুর্ননির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূলের প্রার্খী জাহাঙ্গির খান (Falta Election Result 2026)। আর সেই সুযোগেই কার্যত এক্কেবারে ফাঁকা মাঠে গোল দিল বিজেপি। ফলতা থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছেন আইনজীবী দেবাংশু পণ্ডা। এ ছাড়া, সিপিএম প্রার্থীর নাম শম্ভু কুড়মি এবং কংগ্রেস টিকিট দিয়েছে আব্দুল রেজ্জাক মোল্লাকে। বেলা গড়াতেই লাখের গণ্ডি ছাড়াল পদ্ম শিবির। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয় গণনার কাজ। গণনার শুরু থেকেই এই কেন্দ্রে এগিয়ে বিজেপি।
দুপুর ৩.০০ টে নাগাদ ১৮ রাউন্ড গণনা শেষে ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর ব্যবধান বেড়ে হল ৯১ হাজার ৮৮৯। তিনি ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৫টি ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম প্রার্থী রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ১৮৬টি ভোট। কংগ্রেস ৯৫৩২ এবং তৃণমূল ৫৭০৮টি ভোট পেয়েছে।
১৯ রাউন্ডের গণনা শেষে ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৭৩। তিনি ৯৯২০৮ ভোটে এগিয়ে আছেন। ৩৮২৬৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম। এ ছাড়া, কংগ্রেস ৯৭৫৮ এবং তৃণমূল ৫৯১৪টি ভোট
অন্যদিকে ‘পুষ্পা’র ঝুঁকে পড়ায় মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সিপিএম (CPIM)। তারাই এখন দ্বিতীয় স্থানে। আর প্রাক্তন শাসকদল নামতে নামতে এসে ঠেকেছে চারে। তৃণমূল চতুর্থ স্থানে থাকায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের অবক্ষয়ের কারণেই কি এবার একটু হলেও বামেদের হালে পানি ফিরেছে?
একসময়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূর্গ বলা হতো। সেই দূর্গের যে এমন পরিণতি অতীতেও ভাবতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। শেষবেলায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতও সরে গিয়েছিল জাহাঙ্গিরের মাথা থেকে। যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মূল পর্বে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিনি ফলতার ভোট পিছিয়ে যাওয়ার পর আর সেখানে পা রাখেননি।
স্বাধীনতার পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার এ রাজ্যে ‘শূন্য’ হয়ে গিয়েছিল বামেরা। পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনগুলিতেও সেই খরা কাটেনি। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে মোস্তাফিজুর রহমানের জয় বামেদের সেই দীর্ঘ সাত বছরের ‘শূন্যের গেরো’ ভেঙেছে। এখন ফলতার ফল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ডোমকল কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না।











