বিশ্বকাপ শুরুর আর কয়েক সপ্তাহ মাত্র বাকি, এর মধ্যে বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, ফিফার অনুমতি পাওয়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে দলের নির্ধারিত বেস ক্যাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। (Iran Base Camp) দীর্ঘ আলোচনার পর এই অনুমোদন মিলেছে বলে দাবি ইরানের। কয়েক মাস ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভিসা অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা নিয়ে জল্পনার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের আগে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে বেস ক্যাম্প বদলালেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ বা ম্যাচ সূচিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
আগে দলের প্রস্তুতি শিবির হওয়ার কথা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই পরিকল্পনা বদলানো হয়েছে। এখন বিশ্বকাপ চলাকালীন (Iran Base Camp) ইরানের বেস ক্যাম্প হবে মেক্সিকোর তিহুয়ানায়, যা মার্কিন সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত।
মেহদি তাজ জানান, ফিফা এবং বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক, ইস্তানবুলে আলোচনা এবং তেহরান থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এই অনুমোদন এসেছে। তাঁর দাবি, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের বেস ক্যাম্প ফিফার অনুমোদিত হতে হয় এবং (Iran Base Camp) ইরানের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
অপেক্ষার অবসান, ভারতে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচার নিয়ে বড় আপডেট
(Iran Base Camp) এই সিদ্ধান্তের পিছনে শুধু ক্রীড়া নয়, বড় ভূমিকা রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও। গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক ফের উত্তপ্ত। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং স্ট্রেইট অব হরমুজকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার আবহ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই ইরান দলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে ইরানের ম্যাচ সূচি আগেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় শুরু হয়েছিল জল্পনা— ইরানের ম্যাচ কি অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হবে? এমনকি একটি সময়ে গুঞ্জন ছড়ায়, ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
মার্চ মাসে পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে, যখন খবর প্রকাশ্যে আসে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি ফুটবলারদের নিরাপত্তা এবং প্রবেশ সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠছে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের ফুটবলারদের “জীবন ও নিরাপত্তা” নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে।
তবে সেই সময় থেকেই ফিফা পরিষ্কার করে দেয়, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ম্যাচ খেলবে। গত মাসে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও স্পষ্ট বার্তা দেন, খেলাধুলার উদ্দেশ্য মানুষকে এক করা, বিভক্ত করা নয়।
এবার (Iran Base Camp) বেস ক্যাম্প বদলের মাধ্যমে কার্যত একটি মধ্যপথ বের করল ইরান। ফেডারেশনের মতে, দল মেক্সিকো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকবে, ফলে সম্ভাব্য ভিসা জটিলতাও অনেকটাই কমবে। এমনকি ইরান এয়ারের মাধ্যমে যাতায়াতের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ জি-তে রয়েছে ইরান। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবে তারা। এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে।
এটি ইরানের টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ এবং সব মিলিয়ে সপ্তম অংশগ্রহণ। তবে এখনও পর্যন্ত একবারও নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি তারা। রাজনৈতিক বিতর্ক, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং অনিশ্চয়তার আবহ পেরিয়ে এবার মাঠে নিজেদের নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই নামছে ইরান
শান্তি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের












1 thought on “আমেরিকা ছেড়ে মেক্সিকোতে, বিশ্বকাপের আগে বড় সিদ্ধান্ত ইরানের”