দিল্লির মালব্য নগরের ‘ফ্লাওরিশ স্টে’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর (Delhi Hotel Fire Case) তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এবার জানা গেল, হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজ আগেই বাংলাদেশি নাগরিকদের বেআইনি ভাবে ভারতে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। জাল ভারতীয় নথি তৈরিতে নিজের ঠিকানা ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে হোটেল অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য অবৈধ আবাসন চক্রের যোগ নিয়েও জোরদার হয়েছে তদন্ত।
দিল্লির মালব্য নগরের ‘ফ্লাওরিশ স্টে’ বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বি অ্যান্ড বি) হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এবার প্রকাশ্যে এসেছে, হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজ অতীতেও আইনের জালে জড়িয়েছিলেন। অভিযোগ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জাল ভারতীয় নথি সংগ্রহে সাহায্য করে তাঁদের দেশে বেআইনি ভাবে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি।
(Delhi Hotel Fire Case) পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি পাহাড়গঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়পত্র, আধার এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, সুইটি সরকার ওরফে বিউটি হাওলাদার ওরফে জোহরা খাতুন, তাঁর মেয়ে পুষ্প সরকার ওরফে পুষ্প হাওলাদার এবং এক নাবালক দিল্লিতে ভুয়ো ভারতীয় নথির ভিত্তিতে বসবাস করছিলেন।
তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সুইটি সরকারের ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরিতে দক্ষিণ দিল্লির ছত্তরপুর এনক্লেভের একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই ঠিকানার মালিকানা যাচাই করতে গিয়েই লভকেশ বাজাজের নাম সামনে আসে। পুলিশের দাবি, জেরার সময় বাজাজ স্বীকার করেছিলেন যে তিনি অর্থের বিনিময়ে ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজের আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন। এর ফলে তাঁরা ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সরকারি নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
ভারত নেই, তবু বিশ্বকাপে থাকবে ভারতীয় ছোঁয়া! নজরে এই ৪ ফুটবলার
এই অভিযোগের ভিত্তিতে লভকেশ বাজাজ, সুইটি সরকার এবং পুষ্প সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও জমা দেয় পুলিশ। ফলে বর্তমানে মালব্য নগরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বাজাজের অতীত রেকর্ড নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে তাঁর ভূমিকা ও ব্যবসার ধরনকে।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোররাতে মালব্য নগরের ‘ফ্লাওরিশ স্টে’ হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। পাঁচতলা ভবনজুড়ে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।
তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। (Delhi Hotel Fire Case) হোটেলটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত ছিল, যেখানে মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রায় ২৫ টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি বেসমেন্টেও অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের সন্দেহ, অনুমোদনের তুলনায় অনেক বেশি কক্ষ পরিচালনা, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন হোটেলের লাইসেন্স, কর্মী নিয়োগ, অতিথি রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বাজাজকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তোলা হলে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, হোটেলের কর্মী, ম্যানেজার, হিসাবরক্ষক এবং পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই হোটেলের ম্যানেজার ও অ্যাকাউন্ট্যান্টের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের একাংশের মতে, (Delhi Hotel Fire Case) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং অতীতে বাংলাদেশি নাগরিকদের বেআইনি আবাসনের অভিযোগ—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখলেও, হোটেলটির পরিচালনা ও নথিপত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। ফলে শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, অবৈধ আবাসন ও জাল নথি চক্রের সম্ভাব্য যোগও এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
‘মোদী আমার ভালো বন্ধু’, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প, ফের শুল্ক ইস্যুতে খোঁচা











