একে শওকত-এ রক্ষে নেই, হুমায়ুন দোসর? এবার ‘মাছ চোর’ বদনাম রটলো আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিরুদ্ধে। রাতে বিল থেকে মাছ তুলে বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নওদার বিধায়কের বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিলের বৈধ লিজ তাঁর কাছেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক। অন্যদিকে, সেই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান লিজপ্রাপকরা এবং খৈতান কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টরও।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা এলাকার শক্তিপুর থানার রামনগর-বাছড়া পঞ্চায়েতের চন্দনপুর বিল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বিদুপাড়া মৌজার প্রায় ১৬৭.৫২ একর এলাকায় বিস্তৃত চন্দনপুর বিলে ২০১৫ সাল থেকে যৌথভাবে মাছ চাষ করতেন মহতপুর গ্রামের নাজেম শেখ ওরফে পটল এবং হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। নাজেম শেখের দাবি, খৈতান কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল খৈতান প্রতি বছর সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা লিজের শর্তে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাঁদের চাষের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
নাজেম শেখের অভিযোগ, মাছ চাষের শুরুতেই তিনি প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মাছের পোনা ছাড়েন। পাশাপাশি মাছের খাবার, দেখভাল এবং শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে আরও প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করেন। অথচ হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) কোনও অর্থ ব্যয় করেননি। পরে মাছ বিক্রির সময় নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাজেমকে ব্যবসা থেকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, তিনি শুধু খরচের হিসেব ও নিজের বিনিয়োগের টাকা ফেরত চেয়েছিলেন বলেই এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল।
এছাড়াও নাজেমের অভিযোগ, পরবর্তী বছরগুলিতে মাছ চাষ চললেও লিজ বাবদ নির্ধারিত টাকা খৈতান কোম্পানির কাছে জমা দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাঁকে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে লিজ বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর তিনি নিজের অংশের লিজ বাতিল করার আবেদন জানিয়ে কোম্পানিকে চিঠিও পাঠান।
এরপর খৈতান কোম্পানি নতুন করে লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে নাজেম শেখের বাবা জিন্নাত শেখ এবং কাকা মতরাইল শেখ আবেদন করেন। তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করে ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই থেকে প্রতি বছর ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা লিজ দেওয়ার শর্তে ওই বিলে মাছ চাষের অনুমতি দেয় কোম্পানি।
তবে নতুন লিজ পাওয়ার পরও তাঁরা বিলে নামতে পারেননি বলে অভিযোগ। নাজেম শেখের দাবি, গত আড়াই বছর ধরে হুমায়ুনের (Humayun Kabir) অনুগামীরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁদের ভয় দেখাতেন এবং বিলে নামলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার, এসডিপিও, শক্তিপুর থানার ওসি এবং মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
জীবনতলার রাস্তায় শওকত মোল্লাকে হাঁটালো পুলিশ, ‘মাছ চোর’ গানে সরগরম এলাকা
অবশেষে লিজপ্রাপক জিন্নাত শেখ ও মতরাইল শেখ শক্তিপুর থানার ওসি অতনু দাশের কাছে সমস্ত বৈধ নথি জমা দেন। সেই নথি যাচাইয়ের পর বৃহস্পতিবার সকালে শক্তিপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁরা বিলের দখল নেন।
কিন্তু মতরাইল শেখের অভিযোগ, পুলিশ আসার আগের রাতে বিলের প্রায় সমস্ত মাছ তুলে বাজারে বিক্রি করে দেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর বিলের পাড়ে কিছু মাছ পড়ে থাকতে দেখেন, যা স্থানীয় গ্রামবাসীরা নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ে যান। এতে তাঁদের কয়েক লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে হুমায়ুন (Humayun Kabir) জানান, চন্দনপুর বিলের বৈধ লিজ তাঁর নামেই রয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত নথিও তাঁর কাছে আছে। তাঁর অভিযোগ, শক্তিপুর থানার ওসি অতনু দাস পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গিয়ে বেআইনিভাবে বিলের দখল অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তবে বর্তমান লিজপ্রাপক মতরাইল শেখের দাবি, বিধায়কের দেখানো লিজের কাগজ সম্পূর্ণ ভুয়ো। শক্তিপুর থানার ওসি সেই নথি থানায় জমা দিতে বললেও হুমায়ুন কবীর তা জমা দিতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে খৈতান কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল খৈতান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা কখনও হুমায়ুন কবীরের নামে ওই বিলের লিজ দেয়নি। ফলে চন্দনপুর বিলের প্রকৃত লিজ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।










