২০১৭ সালে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে কিশোরকে প্রথম বড় মঞ্চে দেখেছিল ভারত, ২০২৬ সালে সেই (Ferran Torres) ফেরান তোরেসই লিখলেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে তাঁর বাঁ পায়ের দুরন্ত ভলিই এনে দিল স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। সমালোচনার ‘লর্ড তোরেস’ থেকে এক রাতেই তিনি হয়ে উঠলেন জাতীয় নায়ক।
ফাইনালে বদলে গেল তোরেসের ভাগ্য
বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে (Ferran Torres) তোরেসের নামের পাশে ছিল না কোনও গোল। কেপ ভের্দের বিরুদ্ধে সুযোগ নষ্টের পর প্রথম একাদশ থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল তাঁকে। পর্তুগালের বিরুদ্ধে একটি অ্যাসিস্ট ছাড়া তাঁর অবদান নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু ফাইনালে ৬২ মিনিটে ওয়েরজাবালের বদলি হিসেবে নেমে সব হিসাব বদলে দেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। নিকো উইলিয়ামসের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে নিখুঁত পজিশনিং ও ক্ষিপ্র প্রতিক্রিয়ায় রিবাউন্ড বলটি বাঁ পায়ের হাফ-ভলিতে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোটা ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের তখন আর কিছুই করার ছিল না। গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গিয়ে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটান (Ferran Torres) তোরেস। ফ্ল্যাগে লাথি মেরে উদযাপন করেন, আর মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে ধরেন স্পেনের সতীর্থরা। পরে আরেকবার জালেও বল পাঠিয়েছিলেন, যদিও সেটি অফসাইডে বাতিল হয়।
Este gol es el de todo un país 🇪🇸 pic.twitter.com/yqFfG3nSYL
— Ferran Torres (@FerranTorres20) July 20, 2026
ইতিহাস গড়লেন তোরেস (Ferran Torres)
এই গোলের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পাশাপাশি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখালেন তোরেস। পাশাপাশি ২০১৪ সালে মারিও গোটজের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে গোল করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।
বিশ্বকাপের নায়কের সঙ্গে কলকাতার বিশেষ যোগ
তবে তোরেসের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর। ২০১৭ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে স্পেনের জার্সিতে খেলতে ভারতে এসেছিলেন তিনি। কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম এবং কলকাতার যুবভারতীতে ফুটবলপ্রেমীরা প্রথম দেখেছিলেন (Ferran Torres) তাঁর প্রতিভার ঝলক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে জোড়া গোল করেও শিরোপা জিততে পারেননি, চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছিল। নয় বছর পর সেই ভারত-দেখা কিশোরই আজ বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক।
ভারত দেখেছিল স্পেনের সোনালি প্রজন্মের উত্থান
শুধু তোরেস নন, সেই অনূর্ধ্ব-১৭ স্পেন দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান বার্সেলোনা ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াও, যিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালেও খেলেছেন। তাই বলা যায়, বিশ্বজয়ী স্পেনের এই সোনালি প্রজন্মের উত্থানের প্রথম সাক্ষী ছিল ভারতই।
অঝোরে কাঁদলেন মেসি, বিদায়বেলায় বললেন—’স্পেনই ছিল সেরা’












1 thought on “বিশ্বজয়ের নায়ক ফেরান তোরেসের গল্প শুরু কলকাতায়”