তীব্র খরায় ওষ্ঠগত জনজীবন। ফসল বাঁচাতে মরিয়া কৃষকেরা। প্রাচীনকাল থেকেই অনেকের ধারণা ব্যাঙের বিয়ে দিলে নাকি বরুণদেব সন্তুষ্ট হন। তার দয়ায় নাকি বৃষ্টিপাত হয়। এবার সেই রীতি মেনেই ব্যাঙের বিয়ে দিলেন, অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) অনন্তপুর (Anantapur) জেলার বোরমপল্লী (Borampalli) গ্রামের বাসিন্দারা।
Andhra Pradesh: বরুণ দেবতা তুষ্ট হবেন?
বিয়ের আয়োজনে কোনও ত্রুটি রাখেননি গ্রামবাসীরা। আর পাঁচটা বাড়িতে যেমন ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়, তেমনই ধুমধাম করে ব্যাঙের বিয়ে দিলেন বোরমপল্লী (Borampalli) গ্রামের বাসিন্দারা। গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে মালা বদল সব রীতিই পালন হলো (Andhra Pradesh)।
বিয়ের পর ব্যাঙ দুটিকে নিয়ে একটি ছোট সুজ্জিত রথে চাপিয়ে গ্রামে ঘোরানো হয়। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গ্রামের মহিলারা মঙ্গলগীত গাইলেন। এই আনন্দ উৎসবে অংশ নেন, গ্রামের সকলে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যতক্ষণ অনুষ্ঠান চলেছে, ততক্ষণ ব্যাঙ দুটিকে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। আচার- অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর তাদের নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কেন এই আয়োজন?
হিন্দু লোকসংস্কৃতিতে একটি বহুল প্রচলিত প্রাচীন ধারণা যে, ব্যাঙের বিয়ে দিলে বরুণ দেব সন্তুষ্ট হন। এখনও বহু কৃষিনির্ভর গ্রামীণ সমাজ এই বিশ্বাস নিয়েই চলে। তাঁরা আরও মনে করেন, ব্যাঙের বিয়ে হলে বরুণ দেব দ্রুত বর্ষার আগমন ঘটাবেন। শুধু অন্ধ্রপ্রদেশই নয়, পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন জেলায় অনাবৃষ্টির সময় এই ‘ব্যাঙের বিয়ে’ দেওয়ার রীতি রয়েছে।
বিয়ের এই আয়োজনের জন্য গ্রামবাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা সংগ্রহ করেন। বোরামপল্লি গ্রামের একজন কৃষক বলেন, “আমরা প্রায় এক মাস আগে ফসলের বীজ পুঁতেছিলাম, কিন্তু এক ফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি। মাটিতে কোনও আর্দ্রতা নেই, আর যে মেঘ তৈরি হয় তাতে বৃষ্টি হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সকাল থেকেই ব্যাঙের শোভাযাত্রা করেছি এবং এখন আরেকটি ঐতিহ্যবাহী আচার পালন করছি। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের বিশ্বাস, এ ধরনের অনুষ্ঠানের ফলে বৃষ্টি হওয়া সম্ভব।”।
আরও একজন কৃষক বলেন, “মরশুমের ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছে গোটা গ্রাম। তাই একত্রিত হয়ে এই আয়োজন”।
তিনি বলেন, “বৃষ্টির অভাবে আমাদের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই কৃষকেরা একত্রিত হয়েছেন। আমরা ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করেছি, গ্রামের প্রতিটি রাস্তায় বিয়ে পর ব্যাঙগুলিকে ঘোরানো হয়েছে।”
অন্ধ্রপ্রদেশের অন্যতম খরা প্রবণ জেলা অনন্তপুরে গত কয়েক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনও বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উবিগ্নে রয়েছেন কৃষকেরা।











