এক দু টন নয়, প্রায় ৩.৫ টন ওজনের একটি কামান চুরি গিয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই কামানটি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার ঐতিহাসিক নারওয়ার দুর্গের। এত বিশাল ওজনের একটি কামান কীভাবে চুরি হলো, তা দেখে বিস্মিত তদন্তকারীরা (madhya pradesh)।
madhya pradesh: কীভাবে চুরি গেল কামান?
সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটেছে, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে। সম্ভবত, রাতে কামানটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, প্রাচীন প্রত্নসামগ্রীর অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কোনও চক্র এই চুরি করে থাকতে পারে। কামানটি দুর্গের ভেতরের ‘ওপেন কাচারি’ চত্বরে, প্রায় ৩,০০০ ফুট উঁচুতে রাখা ছিল। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের দুষ্কৃতীর একটি দল দুর্গের পেছনের দুর্গম পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এই কামানটি তুলতে তারা ক্রেনের সাহায্য নিয়েছিল (madhya pradesh)।
তদন্তকারীদের ধারণা, দুষ্কৃতীরা প্রথমে ৫ জুলাই কামানটি সরানোর চেষ্টা করেছিল এবং সেটিকে তার মূল জায়গা থেকে ঠেলে অনেকটাই সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু অত্যধিক ওজনের কারণে তারা সেটিকে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এরপর ১৫ জুলাই দুষ্কৃতীরা পুনরায় ফিরে এসে কামানটিকে গাড়িতে করে সরিয়ে নিয়ে যায়।
চুরি যাওয়া কামানটি হলো সংরক্ষিত ১৪টি ঐতিহাসিক কামানের মধ্যে একটি। কামানটি তামা, ব্রোঞ্জ, পিতল ও অষ্টধাতুর মতো মূল্যবান ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি। এতে ফার্সি ও দেবনাগরী লিপিতে খোদাই করা রাজকীয় প্রতীক আঁকা ছিল।
এই চুরির ঘটনার পরই দুর্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তদন্তের পর জানা যায়, দুর্গের নিরাপত্তার জন্য মোট ৬ জন রক্ষী মোতায়েন ছিলেন। চুরির দিন রাতে দুজন রক্ষী ইভিনিং ডিউটি করেন। এরপর ডিউটি শেষে তাঁরা বাড়ি চলে যান। আর সেই সুযোগেই দুষ্কৃতীরা অনায়াসে দুর্গে প্রবেশ করে।
একজন নিরাপত্তারক্ষী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ‘দুর্গে রক্ষীদের রাত কাটানোর মতো কোনও ব্যবস্থা ছিল না। তাঁদের নিরাপত্তারও ব্যবস্থা ছিল না।’ পুলিশ নিরাপত্তা রক্ষীদের এই বক্তব্য খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনায় শিবপুরীর পুলিশ সুপার ইয়াংচেন ডলকার ভুটিয়া জানিয়েছেন, চুরির এই ঘটনাটি “অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর”। তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং দুর্গ থেকে যাতায়াতের সব পথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত তাদের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত গাড়িটির হদিস পেতে আশপাশের এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।











