রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

প্রশ্নফাঁস বিতর্কে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী, দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা

Published on: July 23, 2026
Modis First Reaction
---Advertisement---

নিট ২০২৬ এর প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক, দিল্লিতে ছাত্রদের আন্দোলন এবং সংসদে টানা অচলাবস্থার আবহে অবশেষে প্রথমবার সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর কথায়, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং যারা ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।

Modi’s First Reaction: কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, “দেশের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।” তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে যে পদক্ষেপগুলি নিচ্ছে, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত সেই উদ্যোগেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, “যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।”

দীর্ঘদিন যন্তর মন্তরে আন্দোলনের পর গত ২০ জুলাই আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর যেভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছিল তারপর থেকেই সমাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারকে ভর্ৎসনা করে একের পর এক পোস্ট শেয়ার হচ্ছিল। কী করে সরকার এত অনমনীয় হতে পারে এই প্রশ্নও উঠছিল। এই আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ, দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ এবং সংসদে টানা বিক্ষোভের মধ্যেই এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া। এর আগে এনডিএ-র বৈঠকেও তিনি প্রশ্নফাঁসকে “ঘোর পাপ” বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে সরাসরি এর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেননি। (Modi’s First Reaction)

পাল্টা আক্রমণ রাহুলের

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাল্টা জবাব দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলেই। তাঁর দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে দেওয়া হয়েছে এবং এর জন্য দায়ীদের সরকারই রক্ষা করেছে। একই সঙ্গে তিনি ছাত্রদের তিনটি প্রধান দাবি ফের সামনে আনেন—

১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ

২. ছাত্রদের কাছে সরকারের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া

৩.আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।

রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫০ টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এতগুলো ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনও সাজা নিশ্চিত করা যায়নি। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেই হবে, দাবি CJP-র

এদিকে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জানিয়েছে এটাই যথেষ্ট নয়, এখনও তাঁরা তাঁদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু নতুন আদালত গঠন করলেই হবে না, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে। এই দাবি থেকে স্পষ্ট, প্রধানমন্ত্রী সমঝোতা করতে চাইলেও তাতে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। উল্লেখ্য, গতকালই তাঁরা জানিয়েছিল তাঁদের সবকটি দাবি পূরণ না হলে এই অনশন এবং আন্দোলন আগামী দিনেও চলবে। (Modi’s First Reaction)

সব মিলিয়ে, নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন প্রথমবার সরাসরি মুখ খুলে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও এতে একেবারেই সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। এখন দেখার, সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তা ছাত্রদের ক্ষোভকে আদৌ কমাতে পারে কিনা।

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের তৃতীয় দিন, চার দফার দাবি না মানলে অনশন চলবে CJP-র


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now