অসমের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, সুরকার ও পরিবেশপ্রেমী জুবিন গর্গের স্মৃতিকে এক অনন্য সম্মান জানালেন উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা। উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গলে আবিষ্কৃত এক নতুন প্রজাতির আদা লিলির নাম রাখা হয়েছে ‘Hedychium zubeengargianum’। সংগীতের পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জুবিন গর্গের দীর্ঘদিনের সচেতন ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই নামকরণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। (Zubeen Garg)
শিলংয়ে শুরু, গবেষণায় মিলল নতুন প্রজাতির পরিচয়
নতুন প্রজাতির এই সুগন্ধি, ক্রিম-সাদা রঙের আদা লিলিটি Zingiberaceae পরিবারের অন্তর্গত। গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গাইগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের বরঝোরা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলীপ কুমার রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (BSI), শিলং-এর বিজ্ঞানী রিকের্ত্রে লাইটান এবং ন্রিপেমো ওডিউও। (Zubeen Garg)
২০১৮ সালে শিলংয়ের বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রথম এই উদ্ভিদটি নজরে আসে। এরপর কয়েক বছরের বিশদ ট্যাক্সোনমিক গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এটি আগে কখনও নথিভুক্ত না হওয়া একেবারে নতুন প্রজাতি। (Zubeen Garg)
আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ গবেষণাপত্র
গবেষণার ফলাফল ২০২৬ সালের ২১ জুলাই প্রকাশিত হয় Association for Plant Taxonomy-এর পিয়ার-রিভিউড জার্নাল ‘Phytotaxonomy’-এর জুন সংখ্যায়। গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল “Hedychium zubeengargianum (Zingiberaceae), a new ginger lily from Northeastern India”। (Zubeen Garg)
গবেষকদের বক্তব্য, ‘zubeengargianum’ নামটি শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় শিল্পীকে সম্মান জানানো নয়, বরং বন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর নিরলস সচেতনতার প্রতিও শ্রদ্ধার্ঘ্য। তাঁদের আশা, এই বুনো সুগন্ধি ফুলের মাধ্যমে জুবিন গর্গের প্রকৃতিপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। (Zubeen Garg)
এক বছরেই দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
২০২৬ সালেই এটি জুবিন গর্গের নামে নামকরণ হওয়া দ্বিতীয় ফুলগাছের প্রজাতি। এর আগে মানাস জাতীয় উদ্যানের তৃণভূমি থেকে আবিষ্কৃত ‘Osbeckia zubeengargiana’ নামে আর একটি নতুন উদ্ভিদের সন্ধান মিলেছিল। সেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক উদ্ভিদবিজ্ঞান সাময়িকী ‘Phytotaxa’য়।
একই বছরে দুটি নতুন উদ্ভিদ প্রজাতির সঙ্গে জুবিন গর্গের নাম জুড়ে যাওয়াকে তাঁর সাংস্কৃতিক অবদান এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতি আজীবন দায়বদ্ধতার বিরল স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন গবেষকরা। তাঁর সৃষ্টির মতোই এবার উদ্ভিদবিজ্ঞানের ইতিহাসেও স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিল জুবিন গর্গের নাম। (Zubeen Garg)
আরও পড়ুন :- Password-এর ঝামেলা কমাতে নতুন ফিচার, সেলফি ভিডিয়ো চালু করল Google












