দেখতে চমরি গাইয়ের মতোই। কিন্তু চমরি গাই নয়। ভাবছেন এ আবার কেমন কথা। গত কয়েক বছর ধরে তিব্বতি মালভূমির এক গোপন ঠিকানায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে চিন। ‘ক্লোন’ করে তৈরি হচ্ছে ‘নকল’চমরি গাই বা ইয়াক। চমরি গাইয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে পৃথিবীতে (cloning yaks)।
cloning yaks: কেন গোপনে গবেষণা করছে চিন?
বেশ কয়েক বছর ধরে চমরি গাই নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে চিন। কিন্তু সেই ঠিকানার হদিস মেলেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুষারাবৃত পর্বতে ঘেরা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমি তিব্বতের কোনও এক ‘অজ্ঞাত’ ঠিকানায় চলছে গবেষণা। গবেষণাগারে ‘ক্লোন’ করে (‘ক্লোনিং’-এর মাধ্যমে কোনও প্রাণীর জিনগত ভাবে নিখুঁত প্রতিরূপ তৈরি হয়। যা দেখতে হুবহু মূল প্রাণীর মতো) একের পর এক চমরি গাই বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন চিনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। সিএনএন জানাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৪০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই গবেষণাগার। তবে সেটি নির্দিষ্ট ভাবে কোথায় রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসেনি (cloning yaks)।
বিলুপ্তির পথে চমরি গাই
চমরি গাই দেখতে অনেকটা ষাঁড়ের মতো। লোমশ চেহারা। সারা শরীর ঢাকা লম্বা লোমে। এতটাই লম্বা যে মাথা ও পিঠের দিকে লোম শরীরে নীচে ঝুলে থাকে। এই প্রাণীদের নিয়ে তিব্বতিদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। তা ছাড়া ওই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই প্রাণী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গৃহপালিত এবং বন্য— উভয় ধরনের চমরি গাইয়ের সংখ্যা ক্রমে কমে আসছে। বন্য চমরি গাইয়ের কিছু প্রজাতি প্রায় বিলুপ্তির দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে।
‘ক্লোন’-এর মাধ্যমে কীভাবে প্রজনন?
এই পদ্ধতির আগে বিজ্ঞানীরা সুস্থ এবং শারীরিক ভাবে শক্তিশালী কিছু চমরি গাইকে বেছে নেন। তাদের দেহকোষ (প্রজনন-কোষ বাদে অন্য যে কোনও কোষ) সংগ্রহ করে তা থেকে নিউক্লিয়াস (প্রাণীর জিনগত বৈশিষ্ট্য থাকে এই অংশেই) আলাদা করে নেন। তার পরে সেটি অপর কোনও চমরি গাইয়ের ডিম্বাণুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। তার পরে ওই নিষিক্ত ক্লোন-ভ্রুণ কোনও স্ত্রী চমরি গাইয়ের গর্ভে স্থাপন করা হয়।
গত কয়েক বছরে চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ চমরি গাই-কেন্দ্রিক অর্থনীতির বৃদ্ধিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন। তার মধ্যে এই ক্লোনিং প্রযুক্তিও অন্যতম। চিনের দাবি, চমরি গাইয়ের প্রজাতিগুলিকে রক্ষা করার জন্যই এই গবেষণা চলছে। ইতিমধ্যে কিছু সাফল্যও এসেছে। তার ‘প্রমাণ’ও ভিডিয়ো আকারে প্রকাশ করেছে বেজিং। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এ পর্যন্ত ‘ক্লোন’ করে ১১টি চমরি গাই বানানো হয়েছে।
তিব্বতের ওই গোপন ল্যাবরেটরিতে ‘ক্লোন’ করা প্রথম চমরি গাইয়ের জন্ম হয় গত বছরের জুলাইয়ে। গৃহপালিত ওই চমরি শাবকের নাম রাখা হয় ‘নামসো-১’। ওই সময়ে চিনা প্রশাসন এটিকে ক্লোন-গবেষণায় এক ‘যুগান্তকারী সাফল্য’ বলে ব্যাখ্যা করে। পরে আরও ১০টি চমরি শাবকের জন্মের কথা ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।












