(Tea Leaf Crisis) উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে নতুন করে দেখা দিয়েছে সংকট। MRL (Maximum Residue Limit) রিপোর্ট ছাড়া কাঁচা চা পাতা কেনা বন্ধ করে দিয়েছে বহু বটলিফ ফ্যাক্টরি। ফলে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সের হাজার হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ফ্যাক্টরিগুলি কাঁচা পাতা নিতে অস্বীকার করায় অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদিত পাতা মাঠেই ফেলে দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
Tea Leaf Crisis: কেন কাঁচা পাতা নিচ্ছে না ফ্যাক্টরিগুলি?
চা শিল্প সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে সেই চা বাজারজাত না করার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে বড় প্যাকেটজাত চা সংস্থাগুলি। টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস এবং হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের মতো সংস্থাগুলি MRL মানদণ্ড পূরণ না করা চা কিনতে বা প্যাকেটজাত করতে রাজি নয়। সেই কারণেই ঝুঁকি এড়াতে উত্তরবঙ্গের বহু বটলিফ ফ্যাক্টরি MRL রিপোর্ট ছাড়া কাঁচা চা পাতা গ্রহণ বন্ধ রেখেছে।
Tea Leaf Crisis: বড় আর্থিক সংকটে ক্ষুদ্র চা চাষিরা
উত্তরবঙ্গের প্রায় ৬৫ শতাংশ চা-পাতা উৎপাদন করে ক্ষুদ্র চা-চাষিরা ৷ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে ৫০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র চা-চাষিদের বাগান রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র চা চাষিদের উপর। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম মেনেই চাষ করলেও প্রতিবার MRL পরীক্ষা করানো সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ফ্যাক্টরিগুলি পাতা না নেওয়ায় উৎপাদিত কাঁচা চা পাতা নষ্ট হচ্ছে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সমাধানে উদ্যোগ, বৈঠক ডাকলেন CISTA
(Tea Leaf Crisis) পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন জলপাইগুড়ি কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি অ্যাসোসিয়েশন (CISTA) এর সভাপতি বিজয় গোপাল চক্রবর্তী। ভারতীয় চা পর্ষদ, বিভিন্ন প্যাকেটজাত চা সংস্থা, ক্ষুদ্র চা চাষি সংগঠন এবং বটলিফ ফ্যাক্টরির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে চাষিদের স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চা উৎপাদন ও বিপণনের পথ খোঁজা হবে।
রফতানি বাজার ধরে রাখতে জরুরি সমাধান
চা শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চায়ের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে MRL সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। তবে একই সঙ্গে ক্ষুদ্র চা চাষীদের জন্য সহজলভ্য, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ের MRL পরীক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে (Tea Leaf Crisis) উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
২রা অগস্ট থেকে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান, ৪৭ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকে রাজ্যপাল











1 thought on “কাঁচা চা পাতা কেনা বন্ধ ! চা শিল্পে নতুন সংকট উত্তরবঙ্গে, কারণ জানেন?”